সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে রেকর্ড ভাঙা সেঞ্চুরি করে মুশফিকুর রহিম পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য রেখেছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের খুব কাছে চলে গেছে।
মুশফিকুরের অনবদ্য ইনিংস
প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করা বাংলাদেশ তৃতীয় দিনে মেঘলা আকাশের নিচে ব্যাটিং শুরু করে। মুশফিকুর রহিম ২৩৩ বলে ১৩৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ১২টি চার ও ১টি ছক্কা। তার এই ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তুলে, এবং পাকিস্তানের জন্য ৪৩৭ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
রেকর্ড ভাঙা সেঞ্চুরি
৩৫ বছর বয়সী মুশফিকুর এই ইনিংসের মাধ্যমে তার ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি মমিনুল হকের ১৩ সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হন। সেঞ্চুরি করার পর তিনি আবেগঘন উদযাপন করেন - দুই হাত উপরে তুলে, ব্যাট ফেলে দিয়ে, তাইজুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে এবং সিজদা করে।
লিটন-মুশফিকুরের জুটি
সকালে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে বাংলাদেশ প্রাথমিক ধাক্কা খায়। তবে মুশফিকুর ও লিটন দাস চাপ সামলে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। লিটন প্রথম ইনিংসে ১২৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করে হাসান আলীর বলে আউট হন।
তাইজুলের সঙ্গে জুটি
খুররম শাহজাদ মেহেদী হাসান মিরাজকে ১৯ রানে আউট করলেও মুশফিকুর তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। সাজিদ খান তাইজুলকে ২২ রানে আউট করেন এবং পরে মুশফিকুরকেও ফিরিয়ে দেন। তিনি ৩ উইকেট নেন।
বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান
প্রথম ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরিতে ২৭৮ রান করা বাংলাদেশ বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অলআউট করে ৪৬ রানের লিড পায়। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে কখনো ৪১৮ রানের বেশি তাড়া করতে পারেনি কোনো দল। ফলে শেষ দুই দিনে পাকিস্তানের জন্য প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে হবে।



