শহীদ দিবসে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, ঢাকায় ১৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন
শহীদ দিবসে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, ঢাকায় ১৫ হাজার পুলিশ

শহীদ দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতিতেই দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত থাকবে।

ঢাকায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের মোতায়েন

দিবসটি ঘিরে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর প্রায় ১৫ হাজার সদস্য। পুলিশের পাশাপাশি দেশজুড়ে দায়িত্ব পালন করবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক পটভূমি

ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয় তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে। ১৯৪৮ সালের মার্চে তা সীমিত আকারে বিস্তার লাভ করে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এর চূড়ান্ত রূপ নেয়। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানায় এবং মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গায়েবি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতারাতি একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি তা গুঁড়িয়ে দেয় সরকার। তবে এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

বাংলা ভাষার স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা

পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর ৭ মে গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সংবিধানে সংশোধন এনে বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করা হয়। পরে ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয় এবং একই বছরের ৮ মার্চ থেকে তা কার্যকর করা হয়।

বাংলা ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ২০১০ সালে, যখন জাতিসংঘ প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরার একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

দিবসের তাৎপর্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

শহীদ দিবস শুধুমাত্র একটি স্মরণের দিন নয়, এটি বাংলা ভাষার মর্যাদা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কিভাবে তরুণ ছাত্ররা তাদের জীবন উৎসর্গ করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে, যা বাংলা ভাষার গৌরবকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আজকের এই দিনে সমগ্র জাতি ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছে এবং বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও প্রচারে অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছে। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হচ্ছে দেশজুড়ে।