কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অগণিত মুসল্লি এই ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও অনেক ভক্ত এবারের জামাতে অংশ নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য
প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছর শোলাকিয়া ঈদগাহকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ বছরও স্থানীয় ও দূরবর্তী জেলা থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। শোলাকিয়ার একমাত্র ঈদের জামাত ঈদের দিন সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানের জন্য বহুস্তরীয় নিরাপত্তাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন থাকবেন। আগের বছরের মতো এবারও ঈদের দিন ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন 'শোলাকিয়া স্পেশাল' চলাচল করবে, যা দূরবর্তী স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করবে।
এবারের ঈদের নামাজের ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বুধবার বিকেলে ঈদগাহ পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, রাতের বৃষ্টিতে মাঠের বিভিন্ন অংশে পানি জমে আছে, হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। মাঠে নামাজের কাতার চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মুসল্লিদের অনুভূতি
দর্শনার্থী ও মুসল্লি লিয়াকত মিয়া বলেন, 'আমার দাদা এই মাঠে নামাজ পড়তেন, আমার বাবা আমাদের ঈদের নামাজে এখানে নিয়ে আসতেন। এখন আমার বাবা বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে সুস্থ নন, তাই আমি আমার সন্তানদের নিয়ে আসি। এই ঈদেও আমি আসব।' আরেক মুসল্লি জামশেদ খান বলেন, 'এই মাঠে বিশাল জমায়েত হয়। কে জানে কার দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।'
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, 'ঈদগাহ মনিটরিংয়ের জন্য ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও র্যাব, বিজিবি ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জেলা শহর ও ঈদগাহ এলাকায় বহুস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।' তিনি মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশের সময় নামাজের জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু না আনার অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসন জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের জন্য অজু ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, 'প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিন দূরবর্তী স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে 'শোলাকিয়া স্পেশাল' নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঈদগাহে মুসল্লিদের জন্য সব প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।'
শোলাকিয়া নামকরণের ইতিহাস
স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে প্রথম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে মাঠটি 'সোয়ালাখিয়া' নামে পরিচিত হয়, যা পরবর্তীতে 'শোলাকিয়া' নামে বিবর্তিত হয়েছে।



