শীতল বা ঠাণ্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের বাড়তি ওজন দ্রুত ঝরানো সম্ভব—এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণায়। গবেষকরা বলছেন, ঠাণ্ডার সংস্পর্শে এলে মানবদেহের এক বিশেষ ধরনের চর্বি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা দ্রুত ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে।
গবেষণায় কী দেখা গেছে?
ইউরোপের গবেষকদের করা এ নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত ঠাণ্ডা পরিবেশে ‘আইস ভেস্ট’ (বরফযুক্ত বিশেষ জ্যাকেট) ব্যবহার করে স্থূল ব্যক্তিদের ওজনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব। যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা যৌথভাবে এ গবেষণাটি পরিচালনা করেন। এতে ৪৭ জন স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তি অংশ নেন। গবেষণার অংশ হিসেবে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইস ভেস্ট পরিয়ে রাখা হয়েছিল। গবেষকরা লক্ষ্য করেন, স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে এ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারীদের ওজন তুলনামূলক দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।
কীভাবে কাজ করে আইস ভেস্ট?
গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঠাণ্ডা আবহাওয়া মানবদেহে থাকা ‘ব্রাউন ফ্যাট’ বা বাদামি চর্বিকে সক্রিয় করে তোলে। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য এ ব্রাউন ফ্যাট নিজে থেকেই ক্যালরি পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করে। নিয়মিত শরীরকে এমন ঠাণ্ডা পরিস্থিতির সংস্পর্শে রাখলে ধীরে ধীরে চর্বি কমতে শুরু করে বলে গবেষকদের ধারণা।
এ ছাড়া, ঠাণ্ডা পরিবেশ শরীরের পেশির কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। তীব্র ঠাণ্ডায় শরীর যখন কাঁপতে শুরু করে (শিভারিং), তখন মূলত তাপ উৎপন্ন করার জন্যই পেশিগুলো এ অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া দেখায়। কাঁপুনির এ প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়, যা শরীরের সামগ্রিক ক্যালরি খরচের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
গবেষকদের মতামত
প্রধান গবেষক ডা. মারিয়েট বন বলেন, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছেন এমন মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ঠাণ্ডার প্রভাব কেমন হতে পারে, তা নিয়ে এটিই প্রথমদিকের অন্যতম একটি গবেষণা। তিনি আরও বলেন, শীতল পরিবেশ একদিকে যেমন শরীরের ব্রাউন ফ্যাটকে সক্রিয় করতে বাধ্য করে, ঠিক তেমনি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে পেশিকেও সচল করে তোলে। ফলে দ্বিগুণ গতিতে ক্যালরি ক্ষয় হয়।
সূত্র: সামা টিভি



