গরমে ঘুমের সমস্যা ও তার বৈজ্ঞানিক সমাধান
দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনির পর রাতের শান্তিময় ঘুম সবার কাম্য। ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, বরং পরবর্তী দিনের জন্য শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। কিন্তু গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞ ডক্টর রাহুল মোদি বলছেন, ঘুমের সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমে যায়, কিন্তু গরমে তা সম্ভব হয় না। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের মান কমে যায়।
ঘুমের সময় শরীরে কী ঘটে?
ঘুমের সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একসঙ্গে কাজ করে, যাতে সকালে আমরা চনমনে বোধ করি। ডক্টর মোদির মতে, শরীর মূলত তার 'কোর টেম্পারেচার' কমিয়ে ঘুমের প্রস্তুতি নেয়, যা সন্ধ্যার পর শুরু হয়। কিন্তু গ্রীষ্মে বাইরের তাপ ও আর্দ্রতা শরীরকে ঠান্ডা হতে বাধা দেয়। এছাড়া দীর্ঘ দিনের আলো ও স্ক্রিনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, যা ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। অনিয়মিত জীবনযাত্রাও এই চক্র ভেঙে দেয়।
দ্রুত ও আরামদায়ক ঘুমের ৭টি উপায়
গ্রীষ্মকালে দ্রুত ঘুমানো অসম্ভব মনে হলেও ডক্টর মোদির পরামর্শ অনুযায়ী কিছু অভ্যাস মেনে চললে অনিদ্রা দূর করা সম্ভব:
১. ঘর ঠান্ডা রাখা
ঘুমানোর আগে ঘরের তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখুন। এসি না থাকলে ফ্যান, সুতি চাদর ও হালকা বিছানার সামগ্রী ব্যবহার করুন।
২. স্ক্রিন টাইম ও আলো নিয়ন্ত্রণ
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন এবং ঘরের আলো কমিয়ে দিন। এটি মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে।
৩. নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে চলা
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান ও জেগে উঠুন, এমনকি ছুটির দিনেও। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি সচল রাখে।
৪. কুসুম গরম পানিতে গোসল
ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন। এটি বরফ-ঠান্ডা পানির চেয়ে বেশি কার্যকর, কারণ এটি শরীরের কোর টেম্পারেচার ধীরে ধীরে কমিয়ে মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত দেয়।
৫. পানি পানের সঠিক সময়
সারাদিন প্রচুর পানি পান করুন, কিন্তু রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি এড়িয়ে চলুন, অন্যথায় বারবার ওয়াশরুমে যেতে হবে।
৬. রাতের হালকা খাবার ও ক্যাফেইন বর্জন
রাতের খাবার হালকা রাখুন এবং দুপুরের পর থেকে চা-কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন। ভারী খাবার ও ক্যাফেইন ঘুমে বাধা দেয়।
৭. ভোরের আলো আটকে দেওয়া
গ্রীষ্মে ভোরের আলো যাতে ঘুম ভাঙাতে না পারে, সেজন্য জানালায় ডার্ক বা ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার করুন। সম্ভব না হলে আই মাস্ক ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
ডক্টর রাহুল মোদি বলেন, মাঝে মাঝে দু-এক রাত ঘুম না হওয়া স্বাভাবিক। তবে যদি সমস্যা দিনের পর দিন চলতে থাকে এবং সকালে ক্লান্তি বোধ করেন, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



