বাউফল থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে শিশু ফেলে পালালেন বাবা পরিচয়দাতা
লঞ্চে শিশু ফেলে পালালেন বাবা পরিচয়দাতা

লঞ্চে শিশু ফেলে পালালেন বাবা পরিচয়দাতা: পটুয়াখালীর বাউফল থেকে ঢাকার ঘটনা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে ছয় থেকে সাত মাস বয়সী একটি কন্যাশিশুকে রেখে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়েছেন বাবা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি। ঘটনাটি গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাউফলের ধুলিয়া লঞ্চঘাট থেকে শুরু হয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সদরঘাটে সমাপ্তি লাভ করে।

ঘটনার বিবরণ ও যাত্রীদের সাক্ষ্য

গতকাল বিকেল চারটার দিকে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এমভি বন্ধন-৫ নামের লঞ্চটি। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ধুলিয়া লঞ্চঘাটে লঞ্চটি নোঙর করলে, অন্য যাত্রীদের সঙ্গে কন্যাশিশুটি নিয়ে লঞ্চে ওঠেন ওই ব্যক্তি। তিনি নিজেকে সন্তানের বাবা পরিচয় দিয়ে বিছানা বিছিয়ে শিশুটিকে শুইয়ে পাশে বসেন। কিছুক্ষণ পর তিনি অদৃশ্য হয়ে যান, যা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

লঞ্চের যাত্রী মো. সোহেল জানান, তিনি ঢাকায় যাওয়ার জন্য ধুলিয়া ঘাট থেকে বন্ধন লঞ্চে ওঠেন এবং তখন এক ব্যক্তিকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে উঠতে দেখেন, তবে তিনি তাঁকে চিনতেন না। লঞ্চের এক নারী যাত্রী বলেন, শিশুটির বাবা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি শিশুটিকে লঞ্চের দোতলায় শুইয়ে রেখে বাচ্চাটির দিকে খেয়াল রাখার কথা বলে চলে যান। তিনি ভেবেছিলেন, জরুরি প্রয়োজনে হয়তো কোথাও গেছেন, কিন্তু আসতে দেরি হওয়ায় শিশুটিকে কোলে নিয়ে খুঁজতে নিচে যান। ততক্ষণে লঞ্চটি ধুলিয়া ঘাট ছেড়ে দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের পদক্ষেপ

এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল মুঠোফোনে বলেন, ‘কেন বা কী কারণে শিশুসন্তানটি রেখে বাবা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি উধাও হয়ে গেছে, সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারছি না। ধুলিয়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে শিশুটির পরিবার শনাক্তের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। পরে আজ সকালে ঢাকায় পৌঁছে সাতটার দিকে সদরঘাট এলাকায় নৌ পুলিশের থানায় শিশুটিকে হস্তান্তর করেছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সদরঘাট নৌ থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. সোহাগ রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পথশিশু ও চরম ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের কল্যাণে নিয়োজিত ‘লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এলইইডিও)’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হেফাজতে শিশুটিকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারাও লেখালেখি করলে শিশুটির স্বজনদের নজরে পড়লে তাঁরা শিশুটিকে নিতে আসতে পারেন।’ এই ঘটনা শিশু পরিত্যাগ ও সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।