ঈদুল আজহা মানেই উৎসব ও আনন্দের আমেজ। দরজায় কড়া নাড়ছে কুরবানির ঈদ। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এই পবিত্র দিনটি আসবে। এই সময়ে গরু বা খাসির মাংসের বড় একটি অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়। তবে মাংসের স্বাদ ও গুণমান ঠিক রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। ভুল পদ্ধতিতে হিমায়িত করলে মাংসের স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। চলুন জেনে নিই, কীভাবে সঠিকভাবে মাংস ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করবেন।
ফ্রিজ পরিষ্কার ও স্থান নির্ধারণ
প্রথমেই ফ্রিজ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। মাংস রাখার অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে ফ্রিজ জীবাণুমুক্ত করে রাখুন। ফ্রিজের ড্রয়ারে প্যাকেটগুলো গাদাগাদি করে না রেখে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন, যাতে ঠান্ডা বাতাস সহজেই চলাচল করতে পারে।
মাংস প্রস্তুতকরণ
মাংস ধুয়ে ফ্রিজে রাখবেন না। এতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা স্বাদ নষ্ট করে দিতে পারে। মাংসের গা থেকে রক্ত ও পানি ভালোভাবে মুছে বা ঝরিয়ে নিন। তারপর বড় অংশ বা সব মাংস একসঙ্গে না রেখে আলাদা করুন। প্রতিবার রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে আলাদা প্যাকেট তৈরি করুন। এতে বারবার পুরো মাংস গলানোর ঝামেলা ও স্বাদ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।
প্যাকেটিং পদ্ধতি
মাংস রাখার জন্য বায়ুরোধী ভ্যাকুয়াম সিলার প্যাকেট বা ভালো মানের জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করুন। প্লাস্টিক বা পলিথিনের মুখ খুব ভালোভাবে পেঁচিয়ে বন্ধ করুন, যাতে বাতাস ঢুকতে না পারে। প্যাকেটগুলো যাতে একটির সঙ্গে অন্যটি আটকে না যায়, তার জন্য মাঝে মোটা কাগজের টুকরো দিন।
লেবেলিং ও তারিখ লেখা
প্রতিটি প্যাকেটের ওপর মার্কার দিয়ে সংরক্ষণের তারিখ পরিষ্কারভাবে লিখে রাখুন। ফ্রিজে সাধারণত চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত গরু বা খাসির মাংসের গুণগত মান ভালো থাকে। তারিখ লেখা থাকলে কোন মাংস আগে রান্না করতে হবে, তা সহজেই বোঝা যায়।
তাপমাত্রা ও সংরক্ষণের সময়
মাংস কাটার পরপরই ফ্রিজে রাখবেন না। এ সময় মাংস কিছুটা গরম থাকে। মাংস পুরোপুরি ঘরের তাপমাত্রায় আসার পর ফ্রিজে রাখুন। পশু জবাইয়ের অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা পর মাংস কিছুটা নরম হলে ফ্রিজে রাখা ভালো। ফ্রিজের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট (-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার নিচে রয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন। সঠিক তাপমাত্রায় মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে।



