জিমেইল ইনবক্স গুছিয়ে রাখার তিনটি কার্যকরী কৌশল: ডট, প্লাস সাইন ও কাস্টমাইজেশন
জিমেইল ইনবক্স গুছিয়ে রাখার তিনটি সহজ কৌশল

জিমেইল ইনবক্স গুছিয়ে রাখার কার্যকরী তিনটি কৌশল

দীর্ঘদিন ধরে একই ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করলে ইনবক্সে অপ্রয়োজনীয় মেইলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সাবস্ক্রিপশন বা প্রচারণামূলক মেইল জমতে জমতে এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে দরকারি মেইল খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে চিন্তার কিছু নেই— সহজ তিনটি কার্যকর কৌশল ব্যবহার করেই আপনি আবারও আপনার ইনবক্সকে গুছিয়ে রাখতে পারেন এবং সময় বাঁচাতে পারেন।

১. ইমেইল ঠিকানায় ডট (.) ব্যবহার করুন

জিমেইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো— ইমেইল ঠিকানার মধ্যে ডট (.) যোগ বা বাদ দিলে তা একই অ্যাকাউন্টেই পৌঁছায়। উদাহরণস্বরূপ, [email protected], [email protected] কিংবা [email protected]—সবগুলোই একই ইনবক্সে যাবে।

এই সুবিধাটি কাজে লাগিয়ে আপনি আলাদা আলাদা উদ্দেশ্যে ভিন্ন ভিন্ন ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এক ধরনের ঠিকানা এবং অফিস বা ব্যবসার জন্য আরেকটি। এরপর জিমেইলের ফিল্টার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় আসা মেইলগুলো আলাদা ফোল্ডারে পাঠাতে পারবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফিল্টার সেটআপ করার ধাপগুলো:

  1. জিমেইলের ডান পাশে থাকা সেটিংস আইকনে ক্লিক করে ‘সি অল সেটিংস’ নির্বাচন করুন।
  2. Filters and Blocked Addresses ট্যাবে যান।
  3. Create a New Filter এ ক্লিক করুন।
  4. To ঘরে ডটসহ ইমেইল ঠিকানা লিখুন।
  5. Create Filter নির্বাচন করুন।
  6. Skip the Inbox এবং Apply the Label অপশন নির্বাচন করুন।
  7. প্রয়োজন হলে নতুন লেবেল তৈরি করুন।
  8. শেষে Create Filter চাপুন।

চাইলেই আগের মেইলগুলোতেও এই ফিল্টার প্রযোজ্য করতে পারেন, যা ইনবক্স ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করে তোলে।

২. প্লাস (+) সাইন দিয়ে অ্যালিয়াস তৈরি করুন

ডটের মতোই জিমেইলে প্লাস (+) সাইন ব্যবহার করে অ্যালিয়াস তৈরি করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, [email protected], [email protected] কিংবা [email protected]। এই ধরনের ঠিকানা ব্যবহার করে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কোন সাইট বা সার্ভিস থেকে মেইল এসেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধরা যাক, আপনি কোনও শপিং ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুললেন। তখন [email protected] ব্যবহার করতে পারেন। পরে ফিল্টার তৈরি করে ওইসব মেইল আলাদা ফোল্ডারে রাখতে পারবেন। এমনকি পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলোর ইমেইল ঠিকানাও পরিবর্তন করে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব, যা ইনবক্সের গোছালো রাখার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

৩. এক ক্লিকেই ইনবক্স কাস্টমাইজ করুন

সব সময় ফিল্টার বা ফোল্ডার তৈরি করার প্রয়োজন হয় না। জিমেইল নিজেই ইনবক্স সাজানোর কিছু অপশন দেয়। সেটিংস আইকনে ক্লিক করে Inbox Type থেকে আপনি বেছে নিতে পারেন:

  • Default
  • Important first
  • Unread first
  • Starred first
  • Priority Inbox
  • Multiple Inboxes

এই অপশনগুলো ব্যবহার করলে ইনবক্সের উপরের অংশে আপনার নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ মেইলগুলো আগে দেখা যাবে। Customize অপশন থেকে আপনি আরও সেটিংস ঠিক করতে পারবেন— যেমন কোন ট্যাব দেখাবেন, কতগুলো আনরিড মেইল দেখাবে ইত্যাদি, যা ইনবক্স ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করে তোলে।

এই কৌশলগুলো ব্যবহার করে নতুন ইমেইল অ্যাকাউন্ট না খুলেই ইনবক্স গুছিয়ে রাখা সম্ভব। তবে চাইলে ভিন্ন কাজে ভিন্ন ইমেইল ব্যবহার করাও খারাপ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— যে পদ্ধতিটি আপনার জন্য সহজ এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারযোগ্য, সেটিই বেছে নেওয়া। তাহলেই অগোছালো ইনবক্সের ঝামেলা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকা যাবে এবং দৈনন্দিন কাজে আরও উৎপাদনশীল হওয়া সম্ভব হবে।