ফ্রিজের আয়ু বাড়াতে ১০টি সহজ টিপস
ফ্রিজের আয়ু বাড়াতে ১০টি সহজ টিপস

ফ্রিজ এমন একটি গৃহস্থালি যন্ত্র, যা সঠিক যত্নে বছরের পর বছর নির্ভরযোগ্য সেবা দিতে পারে। ওয়ারেন্টির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে শুরু থেকেই এর সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। নিচে ফ্রিজের আয়ু বাড়াতে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস তুলে ধরা হলো।

সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা

ফ্রিজের সাধারণ অংশের তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩৭-৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর কাছাকাছি রাখা উচিত। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম তাপমাত্রা খাবার নষ্ট করতে পারে এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়াতে পারে।

গরম খাবার পরিহার করা

রান্না করা গরম খাবার কখনোই সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না। এতে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং কম্প্রেসরের ওপর চাপ পড়ে, যা ফ্রিজের আয়ু কমিয়ে দেয়। খাবার ঘরের তাপমাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পর ফ্রিজে রাখুন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পর্যাপ্ত জায়গা রাখা

ফ্রিজের ভেতরে ঠান্ডা বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা খালি রাখা জরুরি। অতিরিক্ত খাবার ভর্তি করলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং কুলিং কমে যায়।

ঢাকনাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করা

প্রত্যেক খাবার ঢাকনাযুক্ত বাটি, এয়ারটাইট বক্স বা জিপলক ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। এতে খাবারের গন্ধ ছড়াবে না এবং ফ্রিজের ভেতর পরিষ্কার থাকবে।

দরজা বারবার না খোলা

ফ্রিজের দরজা বারবার খুললে বা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায়। এতে কম্প্রেসর বেশি কাজ করে এবং বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায়। তাই দরজা খোলার সময় কমিয়ে দিন।

সঠিক তাকে সঠিক খাবার রাখা

ফ্রিজের দরজার তাকে ডিম বা দুধ না রেখে সস, জ্যাম, জুস বা পানির বোতল রাখুন। নিচের ড্রয়ারে শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন। এতে খাবার দীর্ঘদিন তাজা থাকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্যাসকেট পরীক্ষা করা

ফ্রিজের দরজার চারপাশের রাবার (গ্যাসকেট) ঠিকমতো আটকাচ্ছে কি না, তা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করুন। রাবার ঢিলা হলে বাইরের বাতাস ঢুকে কুলিং কমে যায়। প্রয়োজনে গ্যাসকেট পরিবর্তন করুন।

দেয়াল থেকে দূরত্ব রাখা

ফ্রিজের পেছনে থাকা কয়েল ও মোটর যাতে সহজে তাপ বিকিরণ করতে পারে, সে জন্য ফ্রিজটি পেছনের দেয়াল থেকে ২-৩ ইঞ্চি দূরে স্থাপন করুন। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না হলে ফ্রিজের কার্যকারিতা কমে যায়।

নিয়মিত পরিষ্কার করা

মাসে অন্তত একবার ফ্রিজের ভেতরটা পরিষ্কার করুন। হালকা গরম পানিতে একটু বেকিং সোডা বা ভিনেগার মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ব্যাকটেরিয়া দূর হয় এবং ফ্রিজ সতেজ থাকে।

অতিরিক্ত বরফ জমতে না দেওয়া

আপনার ফ্রিজ যদি ‘ফ্রস্ট-ফ্রি’ প্রযুক্তির না হয়, তবে ডিপ ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ জমতে দেবেন না। বরফের স্তর আধা ইঞ্চি হওয়ার আগেই ডিফ্রস্ট করুন। অতিরিক্ত বরফ জমলে ঠান্ডা বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।