বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ৭ম স্থানে
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ৭ম স্থানে অবস্থান করছে। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শহরের বায়ু মান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ১৪৯। এই মাত্রা বায়ুকে 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে।
বায়ু মান সূচকের শ্রেণীবিভাগ
বায়ু মান সূচকের মাপকাঠি অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত মাত্রাকে 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' বিবেচনা করা হয়। এই অবস্থায় বায়ুর মান এতটাই খারাপ যে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যগত প্রভাব দেখা দিতে পারে, যেমন শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা। তবে সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
একিউআই স্কেল অনুসারে, ১৫১ থেকে ২০০ মাত্রাকে 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরের যেকোনো মাত্রাকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
শীর্ষ দূষিত শহরগুলো
বৃহস্পতিবারের তালিকায় পাকিস্তানের লাহোর, নেপালের কাঠমান্ডু এবং থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরগুলো শীর্ষ তিনে অবস্থান করছে। লাহোরের বায়ু মান সূচক ছিল ৪২৭, কাঠমান্ডুর ২৫৫ এবং চিয়াং মাইয়ের ১৭২। এই শহরগুলোর বায়ু মান 'ঝুঁকিপূর্ণ' থেকে 'অস্বাস্থ্যকর' মাত্রায় রয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে বায়ু মান পরিমাপ
বাংলাদেশে বায়ু মান সূচক মূলত পাঁচটি দূষক পদার্থের উপর ভিত্তি করে পরিমাপ করা হয়। এগুলো হলো: সূক্ষ্ম কণা পদার্থ (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং ওজোন। দৈনিক বায়ুর গুণমান পরিমাপ করে একিউআই নির্দেশ করে যে বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং জনগণ কী ধরনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব অনুভব করতে পারে।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক বায়ু দূষণের সম্মুখীন হচ্ছে। শহরের বায়ু দূষণের মাত্রা সাধারণত শীতকালে আরও খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। নির্মাণ কাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণগুলো ঢাকার বায়ু দূষণের জন্য দায়ী বলে পরিবেশবিদরা উল্লেখ করেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ু দূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটে। এই মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র সংক্রমণ। সংস্থাটি বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ু দূষণ কমানোর জন্য নীতিগত পরিবর্তন, পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিল্পকারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সতর্কতা অবলম্বনও এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



