রাজধানীতে তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যয়, কর্মজীবীদের দুর্ভোগ চরমে
রাজধানীতে তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যয়, কর্মজীবীদের দুর্ভোগ

রাজধানীবাসীর ওপর নেমে এসেছে তীব্র দাবদাহের অভিশাপ

এপ্রিল মাসের শুরুতেই শুরু হওয়া তীব্র দাবদাহের কবলে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রখর রোদ ও উত্তপ্ত বাতাসের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিনভর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাইরে চলাফেরা করা ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

কর্মজীবীদের জীবনযুদ্ধ আরও কঠিন

দৈনিক মজুরির শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে এই দাবদাহের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ। কঠোর পরিস্থিতি সত্ত্বেও তাদের বাইরে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ষাটোর্ধ্ব দৈনিক শ্রমিক রহমান মিয়া বলেন, "আমি সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করেছি, কিন্তু এই গরম অসহনীয় হয়ে উঠছে। এই বয়সে মোকাবেলা করা আরও কঠিন।" তার মতো শহরের অসংখ্য কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ তীব্রতর হয়েছে।

সীমিত আয়ে সংসার চালানো যুদ্ধ

সীমিত আয়ে পরিবার চালানোর সংগ্রামে লিপ্ত এই মানুষদের জন্য পানি, ঠাণ্ডা পানীয় ও ওষুধের বর্ধিত ব্যয় অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাবাজারের এক দৈনিক মজুরি শ্রমিক বলেন, "আমাদের সারাদিন গরমে কাজ করতে হয়। বাড়িতেও কোনো স্বস্তি নেই। শরীর ঘামে ভিজে যায়, কিন্তু আয় কমই থাকে। অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচও জোগাড় করতে পারি না।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিকশাচালক ও পরিবহন শ্রমিকদের অবস্থা

রাইসাহেব বাজারের রিকশাচালক লতিফ মিয়া বলেন, "সূর্য ওঠার সাথে সাথেই গরম তীব্র হয়ে ওঠে। আমরা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ি এবং পানিশূন্যতা অনুভব করি। তবুও রিকশার দৈনিক ভাড়া জোগাড় করতে সড়কে থাকতে হয়।" সদরঘাটের ভ্যানচালক করিম বলেন, "এই গরমে ভারী মালামাল পরিবহন করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর। কেউ কেউ রাতে কাজ করার পরামর্শ দেন, কিন্তু তখন সবসময় পর্যাপ্ত ক্রেতা থাকে না। বেঁচে থাকতে দিনে কাজ করতেই হয়।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফুটপাথের ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতি

ফুটপাথের দোকানি আশিক বলেন, "এই আবহাওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে, আর সারাদিন রোদে বসে থাকায় আমি দুর্বল হয়ে পড়ছি। আমার আয় ইতিমধ্যেই সীমিত, এখন পানির অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়েছে। এটি খুবই কঠিন সময়।"

সোমবার অনেক মানুষ ছায়া খুঁজে, পানি বা ঠাণ্ডা পানীয় দিয়ে শরীর শীতল করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে শহরের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই দাবদাহ মোকাবেলা করা দিন দিন কঠিনতর হয়ে উঠছে। তাদের জীবনযাত্রার মান আরও নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।