বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো, প্রবাসী আয়ে রেকর্ড বৃদ্ধি
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার কারণে এ অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ০৩৮ মিলিয়ন ডলার।
রিজার্ভ বৃদ্ধির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
এর আগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এরও আগে ২০২০ সালের জুনে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ একই উচ্চতায় ওঠে। তখন করোনা মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক যাতায়াত সীমিত থাকায় হুন্ডি কার্যক্রম কমে গিয়ে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা।
প্রবাসী আয়ে অভূতপূর্ব সাফল্য
চলতি এপ্রিল মাসেও প্রবাসী আয় বাড়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৭৮৮ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে একদিনেই এসেছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১ হাজার ৪৭২ মিলিয়ন ডলার, যা তুলনায় প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৯৯৬ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডলার ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা
এদিকে বাজারে অতিরিক্ত ডলারের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ১৬ এপ্রিল চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে, যেখানে কাট-অফ রেট ছিল ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা। চলতি এপ্রিল মাসে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। এই কার্যক্রম রিজার্ভ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।



