চট্টগ্রামে হোটেল কক্ষে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে তদন্ত
চট্টগ্রামে হোটেল কক্ষে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত চলছে

চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং স্ত্রীর খাটে পড়ে থাকা লাশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আত্মহত্যা করেছেন তারা। তবে যে কক্ষটি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়, সেটির দরজা খোলা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে ফয়’স লেক এলাকার ‘রয়েল পার্ক’ হোটেলের চারতলার ৪০৯ নম্বর কক্ষ থেকে মো. রিপন ও তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে আকবর শাহ থানা পুলিশ। রিপনের মরদেহ পাওয়া যায় কক্ষটির ভেতর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়। অন্যদিকে সোনিয়ার মরদেহ খাটে শোয়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল। তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন হোটেল সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় সোনিয়ার ভাই বাদী হয়ে বিকালে নগরের আকবর শাহ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

দম্পতির পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থা

রিপন ও সোনিয়া নগরের লালখান বাজার ঢেবার পাড়ের বাসিন্দা; রিপন ভ্যানে ফল বিক্রি করেন ও সোনিয়া গৃহকর্মী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, রিপন ও সোনিয়ার দাম্পত্য জীবনে ছিল নানা টানাপোড়েন। দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তারা মানসিক চাপে ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। মানসিক চাপ থেকে তারা আত্মহত্যার করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে একই কক্ষে একসঙ্গে দুজনের মৃত্যু এবং তাদের মৃত্যুর ধরন ভিন্ন হওয়ায় ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্তের অগ্রগতি

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সোনিয়ার মুখে ফেনা পাওয়া যাওয়ায় বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে রিপন সত্যিই আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে— এমন প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। হোটেলের প্রবেশপথ ও অন্যান্য স্থানের সিসিটিভি ফুটেজও জব্দ করা হয়েছে। তবে যে তলায় ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

নগরের আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।'