ব্যবসায়ীদের দাবি: এলপিজি সিলিন্ডার ভ্যাট প্রত্যাহার ও শিল্পের কাঁচামালে শুল্ক কমানো হোক
এলপিজি সিলিন্ডার ভ্যাট প্রত্যাহার ও শুল্ক কমানোর দাবি

এলপিজি সিলিন্ডার ভ্যাট প্রত্যাহার ও শিল্পের কাঁচামালে শুল্ক কমানোর দাবি

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ভর্তির ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ফার্নিচার ও পেপারসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআরের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন ১৩টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যবসায়ীরা আসন্ন বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধিসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

এলপিজি সিলিন্ডার ভর্তিতে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব

একই প্রতিষ্ঠানের বোটলিং ইউনিটে এলপিজি সিলিন্ডার ভর্তির সময় বর্তমানে যে ১০ শতাংশ হারে মূসক দিতে হয়, তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। সংগঠনটির মহাসচিব মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, সিলিন্ডার এবং গ্যাস একই কোম্পানি উৎপাদন ও বিপণন করলেও আলাদা স্থানে ভর্তি করার কারণে অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামালের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, কর কমালে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই, তাই সব পর্যায়ে ভ্যাট বহাল রাখা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফার্নিচার ও কাগজ শিল্পের কাঁচামালে শুল্ক হ্রাসের দাবি

আসবাবপত্র খাতের সংকট তুলে ধরে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্পমালিক সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে বিভিন্ন পর্যায়ে করের পরিমাণ বর্তমানে ১১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০ শতাংশ শুল্ক ও সমপরিমাণ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কের ভারে এই শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আগাম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো অন্যের কাছে প্রস্তুত পণ্য হিসেবে গণ্য হতে পারে বলেই শুল্কের হার এমন বেশি।

কাগজ আমদানির ক্ষেত্রেও ভিন্নমুখী দাবি উঠেছে আলোচনায়। বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন দেশে উৎপাদিত হয় না এমন কাগজের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন শুল্ক বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

অন্যান্য শিল্পের দাবি ও প্রস্তাব

এদিকে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মাছ চাষিদের ব্যাংক হিসাব বা ভ্যাট নিবন্ধন না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা ভেনামি চিংড়ি আমদানি করে পুনরায় রপ্তানির অনুমতি চায়। কোল্ড স্টোরেজ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২৬ শতাংশ শুল্ককে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী। তিনি এই শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি মাঠ পর্যায় থেকে আলু কেনার ক্ষেত্রে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অন্যদিকে প্লাস্টিক খাতের উদ্যোক্তারা কাস্টমসে অতিরিক্ত দর নির্ধারণের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, ১ শতাংশ শুল্কের বদলে অনেক ক্ষেত্রে ১০৪ শতাংশ পর্যন্ত কর আদায় করা হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে তারা পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।

করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধা

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত করদাতাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বি এম লুৎফুল হাদি তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর হ্রাসের প্রস্তাব দেন।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্কের বোঝা কমানোর প্রস্তাব দেন এবং তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর কাঠামো তৈরির পরামর্শ দেন।

সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশের আহ্বান

ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করার লক্ষ্যে সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধিরা কাস্টমসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বন্দরে জরিমানা গোনার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধার দাবি জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের এসব যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।