রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ডাকাতদের কাছ থেকে ১৭ ভরি স্বর্ণ, ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা নগদ, একটি মোটরসাইকেল, একটি মাইক্রোবাস, দুটি মোবাইল ফোন, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি ওয়াকিটকি, এক জোড়া হাতকড়া, তিনটি ডিবি-স্টাইলের বেল্ট ও দুটি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: শাহিদুল ইসলাম মাঝি (৬০), আব্দুল মালেক (৫৫), মনির হোসেন (৪৫), ইউসুফ কাজী (৬৫), রইসুল ইসলাম (৩৪), আরিফুল ইসলাম (৩৪), আফজাল হোসেন (৩০), তিন্নাথ পাল (৩৮) ও রিপন পাল (৩৬)।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, গত ২৭ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হরিপদ পাল ও তার কোম্পানির ম্যানেজার ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নগদ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ওয়ারী থানাধীন নবাবপুর রোডের রথখোলা মোড়ে একদল দুর্বৃত্ত নিজেদের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের আটকায়। পরে তারা অস্ত্রের মুখে ভুক্তভোগীদের একটি মাইক্রোবাসে তোলে এবং অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে চোখ বেঁধে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে। পরে তাদের কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছে ফেলে রেখে যায়।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার
হরিপদ পালের অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ গত ৬ জুন ইত্তেফাক মোড় এলাকা থেকে ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে, যখন তারা আরেকটি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর যশোর ও তন্তবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার ও আইনি ব্যবস্থা
পুলিশ জানায়, লুট হওয়া স্বর্ণের মধ্যে ১৭ ভরি গলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, পাশাপাশি ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্বর্ণ বিক্রির অর্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতিতে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে। আরও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ওয়ারী থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি ডাকাত সদস্যদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান চলছে।



