একসময় যা ছিল শুধুমাত্র বাঙালির রান্নাঘরের এক চিরচেনা ‘বাই-প্রোডাক্ট’, আজ সেটিই হয়ে উঠছে একটি ন্যাচারাল সামার ড্রিংক। ভাত রান্নার সময় যে স্টার্চযুক্ত পানি বের হয়, সেটিই মূলত ভাতের মাড়। এতে থাকে হালকা কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে দ্রুত এনার্জি জোগায়, আবার খুব সহজে হজমও হয়।
ভাতের মাড়ের পুষ্টিগুণ
ভাতের মাড়ে উপস্থিত স্টার্চ শরীরে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদান করে। এছাড়া এতে কিছু পরিমাণে খনিজ ও ভিটামিনও থাকে, যা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখতে সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়, ভাতের মাড় তা পূরণ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
হাইড্রেশন ও হজমে সহায়ক
ভাতের মাড়ের আরেকটি বড় গুণ হলো এটি হজমশক্তি বাড়ায়। এতে থাকা হালকা কার্বোহাইড্রেট সহজেই ভেঙে যায়, ফলে পেটের ওপর চাপ কম পড়ে। অনেকেই গরমের দিনে ভাতের মাড় পান করে থাকেন ডিহাইড্রেশন রোধ করতে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পানীয়।
কীভাবে তৈরি করবেন
ভাত রান্নার পর যে পানি ঝরিয়ে ফেলা হয়, সেটাই ভাতের মাড়। এটি কুসুম গরম বা ঠান্ডা করে পান করা যায়। স্বাদ বাড়াতে সামান্য লবণ, চিনি বা লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, ভাতের মাড় যেন বেশি সময় ফ্রিজে না রাখা হয়, কারণ তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বাঙালির রান্নাঘরের খুব সাধারণ এই উপকরণ নতুন করে ফিরে আসছে ট্রেন্ডে। এটিকেই এখন বলা হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর হাইড্রেটিং পানীয়। গরমের দিনে শরীরকে দেয় আরাম, পাশাপাশি রাখে হাইড্রেটেড।



