মধুমাস এলেই বাজারে লিচুর সমারোহ বেড়ে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লিচু এসে জমছে শহরের বাজারগুলোতে। কৃষকরা বলছেন, এবার লিচুর ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ন্যায্য পাওয়ায় তারা খুশি।
বাজারমুখী লিচুর চাহিদা
মধুমাসে লিচুর চাহিদা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে মধুমাস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উৎসবে লিচুর ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে বাজারমুখী লিচুর কদর বেড়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে লিচুর দাম চড়া থাকলেও ক্রেতারা কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন।
কৃষকদের ব্যস্ততা
লিচু চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের লিচু সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের কাজ চলে। অনেক কৃষক সরাসরি বাজারে লিচু পৌঁছে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে বিক্রি করছেন। কৃষকরা জানান, এবার লিচুর ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলে লাভের মুখ দেখছেন তারা।
লিচুর প্রকারভেদ
দেশে বিভিন্ন ধরনের লিচু চাষ হয়। এর মধ্যে বোম্বাই, চায়না-৩, মোজাফ্ফরপুর, বেদানা ও কদমী লিচু বেশি জনপ্রিয়। প্রতিটি প্রকারেরই আলাদা স্বাদ ও গুণাগুণ রয়েছে। মধুমাসে এসব লিচুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি লিচু ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের লিচুর দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। ক্রেতারা বলছেন, দাম একটু বেশি হলেও মধুমাসে লিচু খাওয়ার আনন্দ আলাদা। তাই দাম নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না তারা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। প্রতি বছর উৎপাদন বাড়ছে। এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



