ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া স্বামীর মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন জাহানারা বেগম (৫৫)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নড়াইলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকবার হোসেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
বুধবার (৩ জুন) সকালে নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের নড়াইল সদর উপজেলার পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা এলাকার বাদশার গ্যারেজ সংলগ্ন স্থানে যাত্রীবাহী বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহানারা বেগম রাজারবাগ পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এসআই আবু তাহেরের মা এবং মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। নিহত অ্যাম্বুলেন্স চালক আকবার হোসেনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার পূর্ব চর কোলাকোপা গ্রামে।
ঘটনার পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইসমাইল হোসেনের মৃত্যু হলে তাঁর মরদেহ নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোরের মাহিদিয়া গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন জাহানারা বেগম। অ্যাম্বুলেন্সটিতে মোট নয়জন আরোহী ছিলেন। সকালে নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই জাহানারা বেগমের মৃত্যু হয়।
হতাহত ও উদ্ধার অভিযান
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স চালককে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠান এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
ঘাতক বাস আটক, চালক পলাতক
ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে বাসচালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।



