কিয়া কার্নিভ্যালের বিশেষ আয়োজন ছিল ক্যারিয়ার কর্মশালা। টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক এই কর্মশালা পরিচালনা করেন। মঞ্চে দাঁড়ানোর পরিবর্তে তিনি দর্শকদের মধ্যে নেমে আসেন।
জীবনের কঠিন সময় নিয়ে আয়মান সাদিকের অনুপ্রেরণা
আয়মান সাদিক বলেন, ‘তোমরা অনেক সময় আমাকে মেসেজ দাও। জীবনে সব সময় ভালো সময় যায় না। কখনো ফলাফল খারাপ হয়, কখনো মন খারাপ থাকে। অনেক সময় বাবা-মা বা শিক্ষকও আমাদের সমস্যাগুলো পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। ছোটবেলায় আমি একটি কথা পড়েছিলাম, “যখন তুমি অন্ধকার সময়ের মধ্যে থাকো, তখন মনে হয় তোমাকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আসলে তোমাকে রোপণ করা হয়েছে।”’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি বীজকে যখন মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়, তখন সেটি নষ্ট হয়ে যায় না; বরং কিছুদিন পর সেটি একটি গাছে পরিণত হয়। জীবনের কঠিন সময়ও অনেকটা তেমন। অনেক সফল মানুষের গল্পে দেখা যায়, তাঁরা জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেই সফল হয়েছেন। তাই যখন খুব খারাপ অবস্থায় থাকবে, তখন মনে রাখবে, জীবনে খারাপ সময় স্থায়ী নয়। আজ যদি নিচে থাকো, কাল ওপরে ওঠার সুযোগ আসবেই।’
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
আয়মান সাদিক বলেন, ‘তোমরা যারা স্কুলে পড়ছ, তারা পড়াশোনার পাশাপাশি দুটি জিনিস নিজের জীবনে যোগ করার চেষ্টা করো, একটি দক্ষতা এবং একটি খেলাধুলা। এগুলো হয়তো স্কুলের পাঠ্যসূচিতে নেই, কিন্তু এগুলো তোমার ব্যক্তিগত উন্নতিতে অনেক সাহায্য করবে। এমন কিছু বেছে নাও, যা তোমার ভালো লাগে এবং শখ হিসেবে নিয়মিত চর্চা করতে পারো।’
‘আজ আমি তিনটি পরামর্শ দিয়েছি। প্রথমত, নিজের জীবনকে সুশৃঙ্খল ও সহজ রাখো। দ্বিতীয়ত, মানুষের সামনে যে সাফল্য দেখা যায়, তার পেছনে থাকে তোমার ব্যক্তিগত জীবনের নিয়মিত পরিশ্রম। আর তৃতীয়ত, একটি দক্ষতা ও একটি খেলাধুলাকে নিজের শখ বানাও। এর বেশি পরামর্শ দেব না; কারণ, একটি প্রবাদ আছে, “এক, দুই, তিন। এর বেশি হলে সেটা অনেক বেশি হয়ে যায়।”’
মন্ত্রমুগ্ধের মতো আয়মান সাদিকের কথা শুনছিল কিআ পাঠকেরা। শুধু খুদে পাঠকেরাই নয়, মন দিয়ে তাঁর কথা শুনেছেন অভিভাবকেরাও।



