বই উৎসব ২০২৬-এ আজহারীর জোরালো বার্তা: পাঠাভ্যাস গড়ে তুলুন
জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারী বাংলাভাষী পাঠকদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য একটি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠিত ‘বই উৎসব ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে তিনি মেধা ও মননের বিকাশে পাঠের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরেন।
উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ড. আজহারী ‘সচেতনতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠসংস্কৃতির একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি মানুষের লিখনপদ্ধতির ইতিহাস—হায়ারোগ্লিফিক্স বা চিত্রলিপি থেকে শুরু করে আধুনিক জ্ঞানচর্চার বিবর্তন—বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বই পড়া কেবল একটি অভ্যাস নয়, এটি মনের খোরাক জোগানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বাংলাভাষী পাঠকদের আরও বেশি পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমরা বিশ্বের অন্যান্য উন্নত জাতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারি।”
‘এক-নজরে কুরআন’-এর সাফল্য উদযাপন
এই বিশেষ আয়োজনের পেছনে মূল কারণ ছিল অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এ প্রকাশিত আলোচিত গ্রন্থ ‘এক-নজরে কুরআন’-এর অভাবনীয় সাফল্য। সত্যায়ন প্রকাশন এই বইটির পাঠকদের সঙ্গে আত্মিক বন্ধন উদযাপন করতে ‘বই উৎসব ২০২৬’-এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের স্লোগান ছিল ‘বইয়ের আলোয় রাঙাই সময়’।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, করপোরেট নেতৃত্ব এবং বিপুলসংখ্যক পাঠকের উপস্থিতি এক মিলনমেলার সৃষ্টি করে। পাঠকরা আনন্দঘন পরিবেশে প্রিয় লেখক ড. আজহারীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রদর্শন করেন।
প্রকাশনীর প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সত্যায়ন প্রকাশনের প্রতিনিধি ইসমাইল হোসাইন বলেন, “‘এক-নজরে কুরআন’ গ্রন্থটি দেশ-বিদেশের লাখো পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, যা সত্যিই অনন্য। এই আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমরা এই উৎসবের আয়োজন করেছি। পাঠকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত ও সৃজনশীল কাজ করতে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।”
অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. শেখ মহিউদ্দিন, ডা. জাহাঙ্গীর কবির, ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, সানাউল্লাহ রাহমানী এবং মাওলানা সাইমুম সাদী। তাদের উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
ড. মিজানুর রহমান আজহারীর এই আহ্বান বাংলাভাষী পাঠকদের মধ্যে বই পড়ার প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বই উৎসবের মাধ্যমে পাঠক ও লেখকের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় এটি একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।



