প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় কপিরাইট আইন শক্তিশালীকরণের দাবিতে বাপুস সেমিনার
প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় কপিরাইট আইন শক্তিশালীকরণের দাবি

প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় কপিরাইট আইন শক্তিশালীকরণের দাবিতে বাপুস সেমিনার

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সহযোগিতায় শনিবার (১১ এপ্রিল) একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জাতীয় ভাবধারাপন্থী ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে লেখক-প্রকাশকের দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট স্বার্থ সুরক্ষায় কপিরাইট আইন-২০২৩’ শীর্ষক এই সেমিনার বাপুসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থিত সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত হয়।

সেমিনারের প্রধান অতিথি ও সভাপতির বক্তব্য

বাপুসের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক ও কপিরাইট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের কপিরাইট রেজিস্ট্রার এস. এম. আরশাদ ইমাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘কপিরাইটের ব্যাপ্তি বাংলাদেশে খুবই সীমিত। এক্ষেত্রে বৃত্তকে ভাঙতে হবে। সাহিত্য, প্রকাশনা ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি করতে হবে। একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত সমাজ গঠনে সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজ তার বক্তব্যে জোর দেন, ‘আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়াতে হবে। কপিরাইট আইনকে যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে হবে। আইনের প্রয়োগ বাড়াতে হবে। বইয়ের ভবিষ্যত ভালো করতে হলে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচাতে এবং সংশ্লিষ্টদের জীবনমান উন্নয়নে বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি বন্ধ করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূল প্রবন্ধ ও আলোচনা

বাপুসের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক এবং কপিরাইট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব আবুল বাসার ফিরোজ শেখের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক কপিরাইট রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) এবং কপিরাইট বোর্ডের সদস্য মো. মনজুরুর রহমান। মূল প্রবন্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের (Intellectual Property বা IP) গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

প্রবন্ধে বলা হয়, ‘মানুষের সমাজ-সভ্যতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক কাঠামো নির্মাণে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অবদান অসীম। দৈনন্দিন জীবনে আমরা সচেতন বা অসচেতনভাবে এই সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বাস্তব সম্পদের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদও মালিকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যা পাইরেসি নামে পরিচিত।’

মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বাপুসের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ গোলাম এলাহী জায়েদ এবং মাহমুদুল হাসান। তারা কপিরাইট সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সেমিনারের মূল বার্তা

সেমিনারে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেন:

  • কপিরাইট আইন-২০২৩ এর কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।
  • বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি বন্ধ করে প্রকাশনা শিল্প রক্ষা করতে হবে।
  • সর্বস্তরে কপিরাইট সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
  • লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
  • একটি সৃজনশীল সমাজ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, ‘যত ভালো আইন থাকুক, বাস্তবায়ন না হলে তার গুরুত্ব নেই।’ তাই তারা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।

এই সেমিনার প্রকাশনা শিল্পের ভবিষ্যত ও কপিরাইট সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরে, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।