বিয়ের দাবিতে যুবকের বাড়িতে অনশন, ৫ সন্তানের মা চম্পার সংগ্রাম
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এক অদ্ভুত ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পটুয়াখালী থেকে এসে ৪১ বছর বয়সি চম্পা নামের এক নারী বিয়ের দাবিতে কাজল (২৬) নামের এক যুবকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও বর্তমান অবস্থা
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল থেকে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাঁশদাইড় এলাকায় কাজলের বাড়িতে অবস্থান নেন চম্পা। তবে ঘটনার পর থেকে কাজল তার পরিবারসহ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। আদারভিটা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুজন পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং নারীর নাম চম্পা বলে উল্লেখ করেছেন।
চম্পার বর্ণনা ও দাবি
অনশনরত চম্পা জানান, চার বছর আগে ফোনের মাধ্যমে কাজলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ফোনে ‘কবুল’ বলে তাদের বিয়েও হয়, যদিও কোনো কাবিননামা করা হয়নি। চম্পার আগে মুন্সিগঞ্জে বিয়ে হয়েছিল এবং সেই সংসারে তার পাঁচটি সন্তান রয়েছে। কাজলের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর আগের স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
চম্পার ভাষ্যমতে, তিনি শুরু থেকেই কাজলকে বয়সের ব্যবধান ও সন্তানদের কথা বলে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু কাজল জেনেশুনেই তার সঙ্গে সংসার করার অঙ্গীকার করেন এবং দীর্ঘ চার বছর ধরে তাকে আশ্বস্ত করে আসছেন। এর আগেও তিনি একবার কাজলের বাড়িতে এসেছিলেন। সবশেষ চলতি মাসের ৯ তারিখ কাজল তাকে আসতে বলায় তিনি পটুয়াখালী থেকে এখানে আসেন। কিন্তু বাড়িতে আসার পর দেখেন কাজল পলাতক। এবার বিয়ে না করে তিনি ফিরে যাবেন না বলে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান। ইউপি সদস্য সুজন পারভেজ বলেন, ‘একটি মেয়ে এতো দূর থেকে যেহেতু এসেছেন, নিশ্চয়ই ছেলের কোনো দায়বদ্ধতা আছে। আমি চেষ্টা করছি ছেলের পরিবারের লোকজনকে খুঁজে বের করে আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব হলে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতে।’
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাননি। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এই ঘটনা সামাজিক ও আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।



