গোপালগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে চার বছরের কন্যার জননী
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে মা, আত্মহত্যার হুমকি

গোপালগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে চার বছরের কন্যার জননী

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন চার বছরের এক কন্যা সন্তানের জননী। তিনি দাবি না মানলে আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ঘটনাটি রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে উপজেলার জঙ্গলমুকন্দপুর গ্রামে সংঘটিত হচ্ছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী একই গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী নৌ-জাহাজে চাকরি করেন। গত আট মাস ধরে তিনি প্রেমিক সিজান খন্দকারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই সময়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং সম্পর্কটি বিয়ের প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত গড়ায়।

রোববার রাত ৮টার দিকে সিজান খন্দকার ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধরে ফেলেন। ওই সময় সিজান বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ পেলে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনশন ও হুমকির পরিস্থিতি

কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী সিজানের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। তিনি জানান, সিজান তাকে বিয়ের আশ্বাসে ব্যবহার করেছেন এবং এখন তাকে গ্রহণ না করলে তার আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। দাবি আদায় না হলে তিনি সিজানের বাড়িতেই আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে সিজান খন্দকার ও তার মা আত্মগোপনে রয়েছেন। সিজান ওই গ্রামের জিয়া খন্দকারের ছেলে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

কাশিয়ানী থানার ওসি মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, "অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং সম্ভাব্য সমাধানের চেষ্টা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই ঘটনা সমাজে নারী নির্যাতন ও প্রতারণার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনি সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।