অনেক পরিবার স্ত্রী-সন্তানসহ হজ পালনে যান। সন্তানদের মধ্যে কেউ বড়, কেউ আবার কিশোর বা অল্প বয়সী। কিশোর-কিশোরীরা বাবা-মায়ের দেখাদেখি হজের নিয়ম-কানুন পালন করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অল্প বয়সে হজ করলে কি তা ফরজ হজ হিসেবে গণ্য হবে? নাকি বড় হওয়ার পর পুনরায় হজ করতে হবে?
প্রাপ্তবয়স্কতা নির্ধারণ
এ বিষয়ে প্রথমে বুঝতে হবে কিশোর-কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক কি না। হাদিসের আলোকে ১৪ বা ১৫ বছর বয়সীরা বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচিত। যদি কিশোর-কিশোরীর বয়স ১৪/১৫ বছর বা তার বেশি হয়, তাহলে তার হজ ফরজ হজ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, যদি বয়স অল্প হয়, অর্থাৎ নাবালেগ, তাহলে তার হজ নফল হিসেবে গণ্য হবে। তাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর হজের সামর্থ্য অর্জন করলে তাকে আবার ফরজ হজ আদায় করতে হবে।
হাদিসের প্রমাণ
হাদিসে প্রাপ্তবয়স্কতার বয়স স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘ওহুদ যুদ্ধের দিন আমাকে নবী (সা.)-এর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তখন আমার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। কিন্তু তিনি আমাকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেননি। পরে খন্দকের যুদ্ধের দিন আবার উপস্থাপন করা হলে তখন আমার বয়স ছিল পনেরো বছর, তখন তিনি আমাকে অনুমতি দেন।’
হজরত নাফে (রহ.) বলেন, ‘আমি খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর কাছে এই হাদিস বর্ণনা করলে তিনি বলেন, “এটাই হচ্ছে ছোট ও বড় (অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক)-এর মধ্যকার সীমারেখা।”’ (বুখারি ২৬৬৪, মুসলিম ১৮৬৮)
উপসংহার
সুতরাং, অল্প বয়সে হজ করলে তা ফরজ আদায় হবে কিনা তা নির্ভর করে বয়সের ওপর। ১৪/১৫ বছর বা তার বেশি বয়সে হজ করলে তা ফরজ হিসেবে গণ্য হবে। এর কম বয়সে হজ করলে তা নফল হবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পুনরায় ফরজ হজ আদায় করতে হবে।



