আবাসন জালিয়াতি: গ্রাহকের ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ডিএমডি গ্রেফতার
আবাসন জালিয়াতি: গ্রাহকের ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ডিএমডি গ্রেফতার

আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে যাওয়ার সময় ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রবিবার (১০ মে) ভোরে শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডি মিডিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মামলার বিবরণ

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উত্তরা পূর্ব (ডিএমপি) থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের মাধ্যমে উত্তরখান থানার কাছাকাছি ১০ কাঠা জমির ওপর (জি+৯) তলা বিশিষ্ট চার ইউনিটের একটি ভবন নির্মাণ করে মোট ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালানো হয়। এতে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকার কথা জানানো হয়। প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ এর অফিসে গিয়ে শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে টাকা দেন।

বাদীর বক্তব্য

এই মামলার বাদীও ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কোম্পানির অফিসে গিয়ে জমা দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়, এ সময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার, আইটি ও একাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম (জাহিদ) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাদীর এক বন্ধুও মোট ৯ লাখ টাকা দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতারনার কৌশল

এতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কোম্পানির নিজস্ব মানি রিসিট ও চেক দিলেও জমি আর রেজিস্ট্রেশন করে দেননি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আসামিরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল ও মৌজার জমির শেয়ার বিক্রয়ের নামে আনুমানিক ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছে।

ভয়ভীতি ও হুমকি

বাদী ও অন্যান্য গ্রাহকরা পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে অফিস থেকে বের করে দেয় অভিযোগ করে এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন যে, কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদের নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কোম্পানিতে যারা আর্থিক লেনদেন করেছে সেই দায়ভার তারা গ্রহণ করবে না।

গ্রেফতার ও তদন্ত

মামলাটি তদন্তকালে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত হায়দার কবির মিথুন কোম্পানির ডিএমডি পদে থেকে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন গ্রাহকের নিকট থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে সে আত্মগোপনে চলে যায় এবং ব্যবহৃত সব মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যায়।