ছবি: ফ্রিপিক
অনিশ্চয়তা, ভয় আর দুশ্চিন্তা আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যারিয়ার, পরিবার কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে এই অস্থিরতা আমাদের মানসিক প্রশান্তি কেড়ে নেয়। তবে পবিত্র কোরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যা গভীর সংকটেও মনে প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর করতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াত নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রশান্তির একমাত্র উৎস আল্লাহর স্মরণ
যখন চারপাশের পরিস্থিতি অস্থির করে তোলে, তখন স্রষ্টার স্মরণই হৃদয়ে পরম শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।
উচ্চারণ: আল্লাযিনা আমানু ওয়া তাতমাইন্নু কুলুবুহুম বিজিকরিল্লাহ, আলা বিজিকরিল্লাহি তাতমাইন্নুল কুলুব।
অর্থ: যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি পায়। (সুরা রা’দ, আয়াত: ২৮)
২. সংকটের পর স্বস্তির নিশ্চয়তা
বর্তমানের কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়; স্রষ্টা দুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, কষ্টের পরেই সুখের দেখা মিলবে।
উচ্চারণ: ফা ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা, ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা।
অর্থ: নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। (সুরা শারহ, আয়াত: ৫-৬)
৩. আল্লাহই সর্বোত্তম অভিভাবক
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যখন মনে হয় কেউ পাশে নেই, তখন বিশ্বাস রাখা জরুরি যে আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট।
উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল।
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৩)
৪. একাকীত্বে স্রষ্টার সঙ্গ
বিপদের মেঘ যখন ঘনীভূত হয়, তখন মনে রাখা উচিত—মুমিন কখনো একা নয়, আল্লাহ তার সঙ্গেই আছেন।
উচ্চারণ: লা তাহযান ইন্নাল্লাহা মা'আনা।
অর্থ: দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। (সুরা তাওবা, আয়াত: ৪০)
৫. ভরসায় আসুক স্থিরতা
নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করলে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।
উচ্চারণ: ওয়া মান ইয়াতাওয়াক্কাল আলাল্লাহি ফাহুওয়া হাসবুহু।
অর্থ: যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। (সুরা তালাক, আয়াত: ৩)
৬. ধৈর্য ও নামাজের শক্তি
অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে দুটি কার্যকর পথ হলো—ধৈর্য ধারণ করা এবং নামাজের মাধ্যমে স্রষ্টার সাহায্য চাওয়া।
উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুস তা'ঈনু বিসসাবরি ওয়াসসালাহ, ইন্নাল্লাহা মা'আস সাবিরীন।
অর্থ: হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
৭. রহমতের দুয়ার সবার জন্য খোলা
ভুল বা ব্যর্থতায় নিরাশ হওয়া ঠিক নয়। স্রষ্টার অসীম ক্ষমা ও রহমত সব সময় আমাদের উত্তরণের পথ দেখায়।
উচ্চারণ: কুল ইয়া ইবাদিয়াল্লাযিনা আসরাফু আলা আনফুসিহিম লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ।
অর্থ: বলো, হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)
৮. ভাগ্য ও তকদিরে বিশ্বাস
যা হওয়ার তা হবেই—এই ধ্রুব সত্যটি মেনে নিলে ভবিষ্যৎ নিয়ে অহেতুক ভীতি অনেকটা কমে যায়।
উচ্চারণ: কুল লাই ইউসিবানা ইল্লা মা কাতাবাল্লাহু লানা।
অর্থ: বলো, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া আমাদের কিছুই ঘটবে না। (সুরা তাওবা, আয়াত: ৫১)
৯. জীবনের স্পন্দনের চেয়েও নিকটবর্তী
আপনি যখন নিজেকে সবচেয়ে বেশি অসহায় ভাবছেন, তখনও স্রষ্টা আপনার খুব কাছে থেকে আপনার মনের সব আকুতি শুনছেন।
উচ্চারণ: ওয়া নাহনু আকরাবু ইলাইহি মিন হাবলিল ওয়ারিদ।
অর্থ: আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী (শাহরগ) থেকেও তার নিকটবর্তী। (সুরা ক্বাফ, আয়াত: ১৬)
১০. ঐশী পরিকল্পনার ওপর আস্থা
মানুষের ষড়যন্ত্র বা জাগতিক চক্রান্তের চেয়ে স্রষ্টার পরিকল্পনা অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুনিপুণ।
উচ্চারণ: ওয়াল্লাহু খাইরুল মাকিরীন।
অর্থ: আর আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। (সুরা আনফাল, আয়াত: ৩০)
মানুষ হিসেবে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভয়ে দিশেহারা হওয়া উচিত নয়। কোরআনের এই বাণীগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্ধকারের পরেই আলোর সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহ আমাদের মনে প্রশান্তি দান করুন। আমিন।



