ভারতের উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাত্রায় অ-হিন্দুদের জন্য গোমূত্র পান বাধ্যতামূলক
চারধাম যাত্রায় অ-হিন্দুদের গোমূত্র পান বাধ্যতামূলক

ভারতের উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাত্রায় অ-হিন্দুদের জন্য গোমূত্র পান বাধ্যতামূলক

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে ঐতিহ্যবাহী চারধাম যাত্রা শুরু হওয়ার পরপরই গঙ্গোত্রী মন্দির কমিটি একটি বিতর্কিত ও নজিরবিহীন নিয়ম জারি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো অ-হিন্দু তীর্থযাত্রী যদি গঙ্গোত্রী ধামে প্রবেশ করতে চান, তবে তাকে ‘পঞ্চগব্য’ পান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান উপাদান হলো গোমূত্র। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, সনাতন ধর্মের প্রতি ওই ব্যক্তির আনুগত্য এবং মন্দিরের পবিত্রতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগব্যের উপাদান ও ঐতিহ্য

পঞ্চগব্য হলো গরুর দুধ, দই, ঘি এবং গঙ্গা জলের সাথে গোমূত্র ও গোবরের একটি মিশ্রণ। যমুনোত্রী মন্দির কমিটির মুখপাত্র পুরুষোত্তম উনিয়াল জানান, সনাতন ধর্মে কোনো আচারই পঞ্চগব্য ছাড়া পূর্ণ হয় না এবং যুগ যুগ ধরে এই ঐতিহ্য চলে আসছে। মূলত যাদের এই ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের ভিড় এড়াতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যান্য মন্দিরের ভিন্ন অবস্থান

এদিকে শ্রী বদ্রীনাথ কেদারনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি) গত ১১ মার্চ তাদের বাজেট সভায় অ-হিন্দুদের প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব পাস করেছে। কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী জানান, দেবভূমির পবিত্রতা এবং মন্দিরের মৌলিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখতে এই কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। এই নিয়মের অধীনে দর্শনার্থীদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ঘোষণা করে হলফনামা বা বিশেষ নথিপত্র প্রদান করতে হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে চারধামের অন্যান্য মন্দিরের তুলনায় যমুনোত্রী মন্দির কমিটি কিছুটা ভিন্ন ও উদার অবস্থান নিয়েছে। তারা ‘অতিথি দেবো ভব’ নীতি অনুসরণ করে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল ভক্তকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, আগত সকল দর্শনার্থীই শ্রদ্ধার যোগ্য এবং তারা ঐতিহ্যের এই উদার দিকটি বজায় রাখতে চান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চারধাম যাত্রার গুরুত্ব ও বিতর্ক

উল্লেখ্য যে, বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী নিয়ে গঠিত এই চারধাম যাত্রা হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। গত বছর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর এবার নিরাপত্তার বিষয়েও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিয়ে মন্দির কমিটিগুলোর এই ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মহলে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিয়মগুলি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সংহতির প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।