অপবিত্র অবস্থায় কুরবানি করলে আদায় হবে? জানুন শরিয়তের বিধান
অপবিত্র অবস্থায় কুরবানি করলে আদায় হবে? শরিয়তের বিধান

পবিত্র ঈদুল আজহার সময় কুরবানি নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রশ্ন হলো— কেউ যদি অপবিত্র বা নাপাক অবস্থায় পশু জবাই করে, তাহলে সেই কুরবানি কি সহিহ হবে? অনেকেই মনে করেন, পবিত্রতা ছাড়া কুরবানি আদায় হয় না। অথচ ইসলামি শরিয়ত এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও সহজ নির্দেশনা দিয়েছে। কুরবানির মূল শর্ত হলো আল্লাহর নামে জবাই করা; জবাইকারীর পাক-পবিত্র অবস্থায় থাকা শর্ত নয়।

অপবিত্র অবস্থায় কুরবানি করলে কি কুরবানি আদায় হবে?

হ্যাঁ, কোনো ব্যক্তি যদি অপবিত্র অবস্থায় থেকেও শরিয়তসম্মতভাবে পশু জবাই করেন এবং জবাইয়ের সময় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলেন, তাহলে সেই কুরবানি সহিহ ও হালাল হবে। ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়া মাহমূদিয়া-তে বলা হয়েছে— ‘জবাই করার সময় যদি ‘আল্লাহু আকবার’ বলা হয়, তাহলে কুরবানি হয়ে যাবে। পবিত্র থাকা শর্ত নয়। পাক ও নাপাক— উভয় অবস্থাতেই পশু জবাই করা জায়েজ।’ (ফাতাওয়া মাহমূদিয়া, খণ্ড ২৬, পৃষ্ঠা ১৮২) অর্থাৎ, কারো ওপর গোসল ফরজ থাকা, কিংবা ওজু না থাকা— এসব কারণে কুরবানি বাতিল হবে না। তবে পবিত্র অবস্থায় ইবাদত সম্পন্ন করা অবশ্যই উত্তম ও আদবের অন্তর্ভুক্ত।

ফিকহবিদদের অভিমত

প্রসিদ্ধ হাদিস ও ফিকহভিত্তিক গ্রন্থ ই‘লাউস সুনান-এ এসেছে— ‘অপবিত্র (জুনুব) ব্যক্তির জবাইকৃত পশু হালাল। সে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে জবাই করতে পারবে এবং তাকে এতে বাধা দেওয়া হবে না। কারণ, তাকে কেবল কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখা হয়েছে, আল্লাহর জিকির থেকে নয়।’ আরও বলা হয়েছে— ‘জুনুব অবস্থা কুফরের চেয়েও বড় কিছু নয়। অথচ কাফের ব্যক্তি যদি আল্লাহর নাম নিয়ে পশু জবাই করে, তাও বৈধ হয়।’ এ বিষয়ে ইমাম হাসান বসরি, ইমাম শাফেয়ি, ইসহাক, আবু সাওর এবং হানাফি ফকিহগণ একই মত পোষণ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রন্থে আরও এসেছে— ‘হায়েজগ্রস্ত নারীর জবাইকৃত পশুও হালাল।’ অর্থাৎ, হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় থাকা নারীর জবাইও শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ হবে, যদি আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা হয়। (ইলাউস সুনান, খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ২০০; মাজমাউল আনহুর ৪/১৫৪; হাশিয়াতুত তাহতাবি আলাদ দুরর ৪/১৫২)

কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

কুরবানি বা পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— আল্লাহর নামে জবাই করা, শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম বাদ না দেওয়া। মহান আল্লাহ বলেন— ‘তোমরা সেই প্রাণী থেকে আহার করো, যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে।’ (সুরা আল-আন‘আম: আয়াত ১১৮)

অপবিত্র অবস্থায় পশু কুরবানি বা জবাই করলে কুরবানি নষ্ট হয় না এবং তা হারামও হয় না— যদি আল্লাহর নাম নিয়ে শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা হয়। তাই এ বিষয়ে অযথা বিভ্রান্তি বা কঠোরতা তৈরি করা উচিত নয়। তবে ইবাদতের আদব ও সম্মানের খাতিরে পাক-পবিত্র অবস্থায় কুরবানি করা উত্তম। ইসলাম সহজতার ধর্ম, আর শরিয়তের বিধানও মানুষের জন্য সহজ ও বাস্তবসম্মত।