হজে ঝগড়া-বিবাদ নয়, ইবাদতেই মন দিন: মসজিদে নববীর ইমাম
হজে ঝগড়া নয়, ইবাদতে মন দিন: মসজিদে নববীর ইমাম

হজে ঝগড়া-বিবাদ নয়, ইবাদতেই মন দিন: মসজিদে নববীর ইমামের আহ্বান

হজ শুধু একটি সফর নয়, এটি একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের অনন্য ইবাদত। এই মহান ইবাদতকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে লাখো মুসলিমের হৃদয়ে তৈরি হয় গভীর আবেগ ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি। এমন পবিত্র সময়ে পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ, অনর্থক বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুয়াইজান।

শুক্রবার (২২ মে) জুমার খুতবায় তিনি হজযাত্রীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে একনিষ্ঠভাবে ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন।

হজে বিতর্ক ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান

খুতবায় শায়খ আল-বুয়াইজান হজের আবশ্যকীয় বিষয় (আরকান ও আহকাম) এবং নিষিদ্ধ কাজগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হজের এই পবিত্র সফরে একজন মুসলমানকে নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুনিয়াবি বিতর্ক, ঝগড়া কিংবা অনর্থক আলাপচারিতা যেন এই মহান ইবাদতের একাগ্রতা ও পবিত্রতা নষ্ট না করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: "হজের নির্ধারিত কয়েকটি মাস রয়েছে। যে ব্যক্তি এ মাসগুলোতে হজ পালন করার সংকল্প করবে, সে হজের মধ্যে অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হবে না।" (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৭)

সরকারি নির্দেশনা মানার ওপর গুরুত্বারোপ

সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে মসজিদে নববীর ইমাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া হজের নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলা প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, এটি শুধু প্রশাসনিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয়; বরং মানুষের জানমাল রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের স্বার্থে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ। তিনি হজযাত্রীদের ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রাখারও আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিলহজের প্রথম দশ দিনের ফজিলত

খুতবার শেষাংশে শায়খ আল-বুয়াইজান জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরেন। তিনি এসব দিনকে অত্যন্ত বরকতময় উল্লেখ করে বেশি বেশি নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও জিকির করার আহ্বান জানান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এমন কোনো দিন নেই, যাতে নেক আমল আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।" (বুখারি ৯৬৯) তিনি মুসলিম উম্মাহকে এই সময়গুলোকে আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

হজ মানুষের জীবনে এক মহিমান্বিত পরিবর্তনের নাম। এখানে অহংকার, বিতর্ক ও দুনিয়াবি দ্বন্দ্বের কোনো স্থান নেই। বরং ধৈর্য, আত্মসংযম, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণই হজের প্রকৃত সৌন্দর্য। মসজিদে নববীর ইমামের এই দিকনির্দেশনা শুধু হজযাত্রীদের জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা— ইবাদতের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন হৃদয় হয় বিনয়ী, জিহ্বা হয় সংযত এবং অন্তর থাকে আল্লাহমুখী।