প্রজ্ঞা (নলেজ ফর প্রোগ্রেস) এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় শনিবার (২৩ মে) একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। ওয়েবিনারের শিরোনাম ছিল 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শক্তিশালী নিবন্ধন ব্যবস্থা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত'।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা জানান, সর্বজনীন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধনের হার কম হওয়ার পেছনে আইনগত ও বাস্তবায়নগত ফাঁকফোকর দায়ী। তারা উল্লেখ করেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৯ সবার জন্য আইনি পরিচয় নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দিয়েছে, অন্যদিকে নিবন্ধন সামাজিক সুরক্ষা জাল, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু ট্র্যাকিং, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, রোগ নজরদারি, স্কুলে ভর্তি এবং বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম থেকে সুরক্ষার সাথেও জড়িত।
নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থা
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ, আর মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ, যা বিশ্ব ও আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। তারা উল্লেখ করেন, প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নিলেও নিবন্ধন এখনও পরিবারের ওপর নির্ভরশীল, ফলে অনেক মানুষ সরকারি রেকর্ডের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বক্তাদের বক্তব্য
ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের দেশীয় সমন্বয়কারী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'এসডিজি অর্জনে সহায়তার জন্য নিবন্ধন আইন শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমরা সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।'
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, 'জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধন করে ব্যক্তির কাছ থেকে দায়িত্ব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হলে সর্বজনীন নিবন্ধন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা শেষ পর্যন্ত এসডিজি অর্জনে অবদান রাখবে।'
প্রথম আলোর সহকারী সংবাদ সম্পাদক পার্থ শঙ্কর সাহা মন্তব্য করেন, 'দেশের অর্ধেক জনগণ নিবন্ধন ব্যবস্থার বাইরে থাকা এসডিজি অর্জনের পথে বড় বাধা। এই আইনগত ফাঁকফোকর নীতিনির্ধারকদের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।'
প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিষয় বিশেষজ্ঞরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ওয়েবিনারটি সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের এবং সঞ্চালনা করেন সমন্বয়ক মাশিয়াত আবেদীন, যিনি মূল উপস্থাপনাও করেন।



