কুরবানিতে জোড় সংখ্যক শরিক: ইসলাম কী বলে?
পবিত্র কুরবানি মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রতি বছর ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কুরবানি করেন। তবে এ বিষয়ে মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন ও ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—কুরবানির শরিক কি অবশ্যই বিজোড় সংখ্যক হতে হবে? অনেকে মনে করেন দুই, চার বা ছয়জন মিলে কুরবানি করলে তা শুদ্ধ হয় না। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
জোড় সংখ্যক শরিক হলেও কুরবানি শুদ্ধ
কুরবানিতে শরিকের সংখ্যা জোড় বা বিজোড় হওয়া নিয়ে শরিয়তে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ দুই, চার বা ছয়জন শরিক হয়ে কুরবানি করলে তা সম্পূর্ণ শুদ্ধ হবে। একটি গরু একজন ব্যক্তি একাই কুরবানি করতে পারেন, আবার দুই থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত একত্রে শরিক হয়েও কুরবানি করতে পারেন। শরিকের সংখ্যা বিজোড় হওয়াকে বিশেষ কোনো ফজিলত হিসেবেও গণ্য করা হয়নি।
যেসব পশু দিয়ে কুরবানি করা যায়
ইসলামে ছয় ধরনের গবাদিপশু দিয়ে কুরবানি করা বৈধ। এগুলো হলো—উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। তবে খাওয়া হালাল হলেই সব পশু কুরবানির উপযোগী নয়। উদাহরণ হিসেবে হরিণ খাওয়া হালাল হলেও হরিণ দিয়ে কুরবানি করা জায়েজ নয়।
কোন পশুতে কতজন শরিক হতে পারবেন?
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা—এই তিন ধরনের পশু কেবল একজনের পক্ষ থেকে কুরবানি করা যায়। অন্যদিকে উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। অর্থাৎ একজন, দুজন, তিনজন থেকে শুরু করে সাতজন পর্যন্ত একটি পশুতে অংশ নিতে পারবেন। তবে সাতজনের বেশি যেমন আট, নয় বা দশজন শরিক হলে কুরবানি শুদ্ধ হবে না।
হাদিসের আলোকে কুরবানির শরিক
হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—‘আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে হজের ইহরাম বেঁধে রওনা হলাম। তখন তিনি আমাদের উট ও গরুতে সাতজন করে শরিক হওয়ার নির্দেশ দেন।’ (মুসলিম ১৩১৮, ৩০৪৯)
গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বায় দুই বা ততোধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারবেন না। একইভাবে উট, গরু বা মহিষে সাতজনের বেশি শরিক হওয়াও বৈধ নয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কুরবানির একটি ভাগ বা একটি নামে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারবেন না। যদি এক নামে একাধিক ব্যক্তি অংশীদার হন, তাহলে সেই কুরবানি শুদ্ধ হবে না।
কুরবানি একটি মহান ইবাদত, যেখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন। শরিকের সংখ্যা জোড় না বিজোড়—এটি ইসলামে কোনো ফজিলতের বিষয় নয়। বরং শরিয়তের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে সঠিক নিয়মে কুরবানি আদায় করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব। তাই প্রচলিত ভুল ধারণা পরিহার করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কুরবানির বিধান জানা ও মানা জরুরি।



