যে রব পাখিকে খাওয়ান, তিনি কি তার বান্দাকে ভুলবেন?
যে রব পাখিকে খাওয়ান, তিনি কি তার বান্দাকে ভুলবেন?

জীবনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তাগুলোর একটি হলো রিজিক। ভবিষ্যৎ কী হবে, সংসার কীভাবে চলবে, প্রয়োজনগুলো কীভাবে পূরণ হবে—এসব ভাবনা মানুষকে অস্থির করে তোলে। কখনো কখনো এই দুশ্চিন্তা হৃদয়কে এতটাই ভারী করে দেয় যে, মানুষ নিজের রবের অসীম রহমতের কথাও ভুলে যায়। অথচ একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এই বিশ্বাস—রিজিক মানুষের হাতে নয়, আল্লাহর হাতে।

যিনি আকাশে উড়ন্ত পাখিকে আহার দেন, সমুদ্রের গভীরে থাকা মাছের খাদ্যের ব্যবস্থা করেন, মরুভূমির পিঁপড়ার রিজিকও যিনি ভুলে যান না—তিনি কি তাঁর প্রিয় বান্দাকে ভুলে যাবেন? আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: 'পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।' (সুরা হুদ: আয়াত ৬) এই আয়াত একজন মুমিনের হৃদয়ে গভীর প্রশান্তি এনে দেয়। কারণ এখানে আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করছেন—সমস্ত সৃষ্টির রিজিকের দায়িত্ব তাঁর।

রিজিক শুধু অর্থ নয়

অনেকেই মনে করেন রিজিক মানেই টাকা-পয়সা বা সম্পদ। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে রিজিক আরও বিস্তৃত। সুস্থতা রিজিক, মানসিক শান্তি রিজিক, নেক সন্তান রিজিক, ভালোবাসার মানুষ রিজিক, আর ঈমান ও হেদায়েত সবচেয়ে বড় রিজিক। অনেকের অর্থ আছে কিন্তু শান্তি নেই। আবার কেউ অল্প সম্পদেও প্রশান্তিতে জীবন কাটান। কারণ প্রকৃত রিজিক সেইটাই, যাতে আল্লাহ বরকত দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাখির মতো ভরসা করতে শিখুন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের ঠিক সেভাবেই রিজিক দিতেন, যেভাবে পাখিদের দেন। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।' (তিরমিজি ২৩৪৪) খেয়াল করুন—পাখি বাসায় বসে থাকে না। সে চেষ্টা করে, উড়ে যায়, খোঁজ করে। কিন্তু তার অন্তরে ভয় থাকে না। কারণ সে জানে—তার রব তাকে ফিরিয়ে দেবেন না। একজন মুমিনেরও ঠিক তেমনই হওয়া উচিত—চেষ্টা করবে, পরিশ্রম করবে, কিন্তু অন্তরে ভরসা থাকবে আল্লাহর ওপর।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুশ্চিন্তা নয়, দোয়া করুন

মানুষ যখন রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পায়, তখন সে হতাশ হয়ে পড়ে। অথচ আল্লাহ আমাদের দুশ্চিন্তার পরিবর্তে দোয়া করতে শিখিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'তোমাদের রিজিক আসমানে নির্ধারিত রয়েছে এবং যা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তাও।' (সুরা আয-যারিয়াত: আয়াত ২২) তিনি আরও বলেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহই মহান রিজিকদাতা, শক্তির অধিকারী, পরাক্রমশালী।' (সুরা আয-যারিয়াত: আয়াত ৫৮)

গুনাহ রিজিকের বরকত কমিয়ে দেয়

অনেক সময় মানুষ প্রচুর চেষ্টা করেও প্রশান্তি পায় না। কারণ শুধু উপার্জন নয়, রিজিকের বরকতও গুরুত্বপূর্ণ। আর গুনাহ সেই বরকত কমিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'মানুষ কখনো কখনো তার গুনাহের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।' (ইবনে মাজাহ ৪০২২) তাই রিজিক বৃদ্ধির জন্য শুধু পরিশ্রম নয়, তওবা-ইস্তিগফার, হালাল উপার্জন এবং আল্লাহর আনুগত্যও জরুরি।

যখন সবাই ছেড়ে যায়

জীবনের কঠিন সময়ে মানুষ অনেককে পাশে পায় না। প্রিয় মানুষও দূরে সরে যায়। কিন্তু একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হলো—আল্লাহ কখনো তাঁর বান্দাকে একা ছেড়ে দেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।' (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৪০) এই একটি আয়াতই হতাশ হৃদয়ে নতুন আলো জ্বালিয়ে দিতে পারে।

রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত ভয় নয়, বরং আল্লাহর প্রতি গভীর ভরসাই একজন মুমিনের আসল শক্তি। মনে রাখবেন, আপনার জন্য যা নির্ধারিত, তা কেউ থামাতে পারবে না। আর যা আপনার নয়, তা কোনোভাবেই আপনার হবে না। তাই হতাশ হবেন না। হালাল পথে চেষ্টা চালিয়ে যান, দোয়া করুন, ইস্তিগফার করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। কারণ যে রব আপনার জন্মের আগেই আপনার রিজিক লিখে রেখেছেন, তিনি কখনো আপনাকে ভুলবেন না।