বলিউডের রূপালি পর্দার এক সময়ের পরিচিত মুখ ও দাপুটে অভিনেতা ভরত কাপুর আর নেই। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
অভিনয় জীবন
পর্দায় ভিলেনের সহচর হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। সংলাপ উপস্থাপন ও সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি থিয়েটারেও ছিল তার সমান বিচরণ। সত্তর দশকে বলিউডে যাত্রা শুরু করা এই অভিনেতা অভিনয় করেছেন ‘নুরি’ (১৯৭৯), ‘রাম বলরাম’ (১৯৮০), ‘লাভ স্টোরি’ (১৯৮১), ‘বাজার’ (১৯৮২), ‘গুলামি’ (১৯৮৫), ‘আখরি রাস্তা’ (১৯৮৬), ‘সত্যমেব জয়তে’ (১৯৮৭), ‘স্বর্গ’ (১৯৯০), ‘খুদা গাওয়া’ (১৯৯২) ও ‘রঙ’ (১৯৯৩)-এর মতো সিনেমায়। পরবর্তীতে ‘বরসাত’ (১৯৯৫), ‘সাজান চলে সসুরাল’ (১৯৯৬) ও ‘মীনাক্ষী: এ টেল অফ থ্রি সিটিজি’ (২০০৪)-এর মতো সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। কখনো আইনজীবী, কখনো পুলিশ কিংবা দুর্ধর্ষ খলনায়ক প্রতিটি চরিত্রেই তিনি ছিলেন সমান সাবলীল।
ছোট পর্দায় অবদান
সিনেমার পাশাপাশি ছোটপর্দাতেও ছিল তার সরব উপস্থিতি। ‘ক্যাম্পাস’, ‘শাঁস’, ‘আমানত’, ‘তারা’ ও ‘চুনোতি’-র মতো ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি পান। মূল চরিত্রে না থেকেও অভিনয় দক্ষতায় আলাদা করে নজর কাড়ার ক্ষমতা ছিল তার।
শেষকৃত্য ও শোক
সোমবার সন্ধ্যাতেই সম্পন্ন হয়েছে ভরত কাপুরের শেষকৃত্য। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু অবতার গিল। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ভরত এবং প্রায় ৫০ বছরের বন্ধুত্ব ছিল তাদের। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী লোপা এবং দুই ছেলে রাহুল ও সাগরকে রেখে গেছেন ভরত কাপুর। এর আগে তার একমাত্র কন্যা কবিতা অকালপ্রয়াত হন। অভিনেতার চলে যাওয়ায় ভক্তদের মাঝেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। তবে পর্দার সেই চিরচেনা ভরত কাপুর তার কালজয়ী কাজের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন আজীবন।



