এপস্টাইনের বাড়িতে ব্লেন ও কপারফিল্ডের জাদু: নথিতে নতুন তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত 'এপস্টাইন ফাইলস' বা এপস্টাইন সংক্রান্ত নথিগুলো বিশদ পরীক্ষা করে সিএনএন জানিয়েছে, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে বিশ্বখ্যাত জাদুকর ডেভিড ব্লেন এবং ডেভিড কপারফিল্ডের গভীর সখ্য ছিল। নথিতে ব্লেন ও এপস্টাইনের মধ্যে কয়েক ডজন বার্তা বিনিময়, অসংখ্য ফোন কল এবং সরাসরি সাক্ষাতের পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিশ্বখ্যাত জাদুকর ডেভিড ব্লেন তখন তার পরবর্তী অসম্ভব এক কৌশল দেখানোর নেশায় মত্ত। লক্ষ্য ছিল কেরোসিন গিলে ফেলা। এ বিপজ্জনক কসরতের প্রস্তুতির জন্য ব্লেন প্রথমে গোল্ডফিশসহ গ্লাস ভর্তি পানি গিলতেন। জাদুকরের সেই পানি ও মাছ গিলা আর উগড়ে দেওয়ার দৃশ্য সামনে বসে সরাসরি দেখছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা উডি অ্যালেন। ব্লেন কখনোই উল্লেখ করেননি যে, তার ২০১৩ সালের সেই বিখ্যাত স্পেশাল শো 'ডেভিড ব্লেন: রিয়েল অর ম্যাজিক'-এর এ অংশটি চিত্রায়িত হয়েছিল জেফরি এপস্টাইনের নিউইয়র্কের বিলাসবহুল বাড়িতে।
নথি থেকে পাওয়া এপস্টাইনের রান্নাঘরের একটি ছবি। ছবি: মার্কিন বিচার বিভাগ-ডিওজে। নথিতে দেখা যায়, ২০১৩ সালের এপ্রিলে এপস্টাইন উডি অ্যালেনের স্ত্রী সুন-ই প্রেভিনকে ইমেইল করে জানান, ব্লেন আজ রাতে উডি অ্যালেনের সামনে 'গোল্ডফিশ ট্রিক' দেখাতে এবং তা ভিডিও করতে চান। এপস্টাইনের সহকারী লেসলি গ্রফ এক বার্তায় এপস্টাইনকে মনে করিয়ে দেন, ব্লেন তার বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে ওঠার এবং বাথরুমে যাওয়ার দৃশ্য ধারণ করতে চান। সিএনএন ভিডিওর আসবাবপত্র ও অন্দরসজ্জা এপস্টাইনের বাড়ির ছবির সঙ্গে মিলিয়ে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ব্লেন ও এপস্টাইনের এ যোগাযোগ মূলত ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বেশি ছিল। ২০০৮ সালে এপস্টাইন নাবালিকার সঙ্গে যৌনচারের অভিযোগে দণ্ডিত হওয়ার পরও তাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। এমনকি ২০০৩ সালেও ব্লেন এপস্টাইনের বাড়িতে নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন নারী জানিয়েছেন যে, তারা ব্লেনের মাধ্যমে এপস্টাইনের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। একজন নারী জানান, ১৮ বছর বয়সে নিউইয়র্কের একটি নাইট ক্লাবে ব্লেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ব্লেনই তাকে এপস্টাইনের ম্যানশনে নিয়ে যান। সেই সূত্র ধরেই তিনি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে নতুন বছর উদযাপনের আমন্ত্রণ পান এবং পরবর্তী সময়ে এপস্টাইনের সঙ্গে তার 'অসংখ্যবার' যোগাযোগ হয়।
অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম ধনী জাদুকর ডেভিড কপারফিল্ডেরও এপস্টাইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বহু প্রমাণ মিলেছে। এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ 'লিটল সেন্ট জেমস'-এ কপারফিল্ডের বাথরোব পরা অবস্থায় তোলা ছবি নথিতে পাওয়া গেছে। এমনকি কপারফিল্ডের নিজস্ব দ্বীপ 'মুশা কে'-তেও এপস্টাইন ও তার সঙ্গীদের আনাগোনার ছবি রয়েছে।
২০০৭ সালে যখন এপস্টাইন ফ্লোরিডায় যৌন পাচারের তদন্তের মুখে ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ওয়াশিংটনে কপারফিল্ডের বিরুদ্ধেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এফবিআইয়ের তৎকালীন নথিতে দেখা যায়, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছিলেন যে, এই দুই বন্ধুর সম্পর্কের পেছনে কোনো 'অবৈধ কর্মকাণ্ড' বা 'নাবালিকাদের প্রতি আসক্তি' কাজ করছে কিনা। নথিতে কপারফিল্ডের একটি 'বিজনেস লিস্ট'-এর কথা উল্লেখ আছে, যা মূলত যৌন লালসা চরিতার্থ করার জন্য নারীদের একটি তালিকা বলে ধারণা করেছিলেন গোয়েন্দারা।
২০১৭ সালে ব্লেনের বিরুদ্ধেও লন্ডনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল (যা পরে প্রমাণের অভাবে খারিজ হয়)। তখন এপস্টাইন ব্লেনকে ইমেইল করে লিখেছিলেন, 'তোমার কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমি পাশে আছি।'
যদিও এপস্টাইনের কোনো অপরাধের সঙ্গে ব্লেন বা কপারফিল্ডের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়নি, তবে সিএনএন-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তাদের প্রতিনিধিরা কোনো সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টাইন ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান। তার সঙ্গে জাদুকরদের এই সখ্য আবারও প্রমাণ করল যে, বিনোদন ও রাজনীতির এলিট জগতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি।



