তৃণমূলের পরাজয়ে পরমব্রতর স্বস্তির নিঃশ্বাস
তৃণমূলের পরাজয়ে পরমব্রতর স্বস্তির নিঃশ্বাস

সদ্য শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর টালিউড তারকাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তিনি নিজের স্বস্তির কথা জানিয়েছেন এবং তৃণমূলের কিছু নেতার আচরণের সমালোচনা করেছেন।

পরমব্রতের প্রতিক্রিয়া

কলকাতার সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরমব্রত বলেন, 'আসলে জনসাধারণের মধ্যে একটা রাগ ছিল। সেই রাগটা থাকা স্বাভাবিক। কারণ তৃণমূলের কজন নেতা-মন্ত্রী, বিধায়কের জুলুমবাজি জনতার কাছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভালো কাজকে গৌণ করে দিয়েছে। এটা তৃণমূলের অতি বড় সমর্থকও স্বীকার করবেন। সেখানে আমি তো তৃণমূল পার্টির সদস্য কিংবা কর্মীও নই।'

তিনি আরও বলেন, 'বাংলার সাবেক শাসক দলের যেমন কিছু ভালো প্রকল্প কাজ ছিল, তেমনই তাদের একটা অংশের কর্মীদের ঔদ্ধত্য, মানুষের জীবনে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা, একই সঙ্গে দুর্নীতি – এগুলো কোনোটাই তো অস্বীকার করা যায় না।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনা ও বাস্তবতা

এর আগে জল্পনা উঠেছিল যে পরমব্রত তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। এমনকি দলটির হয়ে মঞ্চে বক্তৃতা দিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেই দল নিয়ে এত সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি তৃণমূলের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন, এই প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা স্পষ্ট করে বলেন, 'ভোটার তালিকা থেকে যেভাবে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, সেটা আমার অসাংবিধানিক মনে হয়েছে। আর গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করার অধিকারও আমার রয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে রাজ্যে বামেরা সেভাবে নেই, আর কংগ্রেস তো অস্তিত্ব সংকটে, তাই প্রতিবাদের পথ হিসেবে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছিলাম। তাছাড়া মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল এবং রয়েছে। উনিও জানতেন, আমি এসআইআর বিরোধী। সেকারণেই নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে বেশ কটা প্রচারে গিয়েছিলাম।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থাৎ তার কথা থেকে স্পষ্ট, মূলত বিকল্প না থাকায় তিনি তৃণমূলের সঙ্গে প্রচারে ছিলেন। 'বাইশে শ্রাবণ' খ্যাত এই তারকা জানান যে তিনি দলের বিরোধিতা করলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।

টালিউডে তৃণমূলের প্রভাব ও তার লড়াই

টালিউডে তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার প্রসঙ্গে পরমব্রত বলেন, 'তৃণমূল সরকার সিনেশিল্পটা এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা কোনোভাবেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই ক্ষমতার আস্ফালনের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নেমেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের সব কাজ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর একটা সময়ে আমাকে অব্যাহতি চাইতেই হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'আর আমার সেই লড়াইয়ের উপরই রাজনৈতিক রং লাগিয়ে দেওয়া হয়। অনেকের মতো আমাকেও অনেক অপমান হজম করতে হয়েছে। নির্বাচনি রেজাল্ট নিয়ে বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কাঁটাছেড়া হতে পারে, কিন্তু এহেন ফলাফলে যদি আখেরে সিনেমার উন্নতি হয় কিংবা ফেডারেশনের খবরদারি বন্ধ হয়, তাহলে সেটা স্বস্তির।'

পরমব্রতের মতে, নির্বাচনের এই ফলাফল টালিউডের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, কারণ এটি সিনেমা শিল্পে অযাচিত রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে সহায়তা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে ফেডারেশনের খবরদারি বন্ধ হবে এবং চলচ্চিত্রের স্বাধীন বিকাশ সম্ভব হবে।