পঞ্চগড়ের তেলখনি বন্ধ: রহস্য আজও অমীমাংসিত, এলাকাবাসীর আশা শেষ নয়
পঞ্চগড়ের তেলখনি বন্ধ: রহস্য আজও অমীমাংসিত

পঞ্চগড়ের শালবাহান এলাকায় আবিষ্কৃত তেলখনি বন্ধের ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। বিবিসিতে প্রচারিত সংবাদে শালবাহানসহ পুরো এলাকায় আশার সঞ্চার হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই ‘কোনো তেল নেই’ বলে কূপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সিল করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। তারা এখনও আশা করছেন, একদিন কর্তৃপক্ষ পুনরায় খনন শুরু করবে।

তেলখনি আবিষ্কারের ইতিহাস

১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে ভূতাত্ত্বিক জরিপে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান জুগিগজ এলাকায় মাটির ৯শ মিটার গভীরে তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উত্তোলনযোগ্য তেল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তৎকালীন এরশাদ সরকার ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প অনুমোদন করে এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে চড়ে খনির উদ্বোধন করেন।

হঠাৎ বন্ধের রহস্য

পরীক্ষামূলক তেল উৎপাদনের এক সপ্তাহ পরই সরকার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘তেল নেই’ জানিয়ে যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়া হয়। মিডিয়ায় কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় রহস্য আরও গভীর হয়। সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠলেও সঠিক কারণ জানা যায়নি। কেউ কেউ আন্তর্জাতিক চাপ বা গোপন সমঝোতার কথা বলছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতামত

স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, শালবাহানের মাটির গভীরে বিপুল পরিমাণ উত্তোলনযোগ্য ডিজেল বা কেরোসিন মজুত আছে। পঞ্চগড়ের সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণেই তেলকুপ বন্ধ করা হয়েছে। আমরা শিগগিরই মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করব।’

প্রশাসনের উদ্যোগ

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহিন খসরু জানান, নতুন করে তেলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে লিখিত পত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের এই রহস্যের অবসান হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ