অড্রে হেপবার্ন: হলিউডের রাজকুমারীর অমর গল্প
অড্রে হেপবার্ন: হলিউডের রাজকুমারীর অমর গল্প

১৯২৯ সালের ৪ মে বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণ করেন অড্রে ক্যাথলিন রুস্টন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ছদ্মনাম নেন এডা ভন হেমেস্ট্রা, কারণ ইংরেজি নাম তখন বিপজ্জনক ছিল। পরবর্তীতে তিনি অড্রে হেপবার্ন নামে পরিচিতি পান।

গুপ্তচরবৃত্তি ও ব্যালে

যুদ্ধকালীন সময়ে অড্রে হেপবার্ন গুপ্তচর হিসেবেও কাজ করেছেন। নাৎসি দখলদারির বিরুদ্ধে ডাচ প্রতিরোধ বাহিনীর জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে তিনি ব্যালে মঞ্চস্থ করতেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র কিশোরী।

অস্কার জয় ও 'রোমান হলিডে'

অড্রে হেপবার্ন পাঁচবার অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। ১৯৫৩ সালে 'রোমান হলিডে' সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন। এই সিনেমায় তিনি রাজকুমারীর চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে 'রাজকুমারী' হিসেবে পরিচিতি পান। রোমের রাস্তায় রাজকুমারী ও মার্কিন সাংবাদিকের স্কুটিতে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য সিনেমাপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মজার বিষয় হলো, 'রোমান হলিডে'তে অভিনয়ের কথা প্রথমে ছিল না। প্রযোজকের প্রথম পছন্দ ছিলেন এলিজাবেথ টেলর। কিন্তু স্ক্রিন টেস্টে অড্রের মুগ্ধতা দেখে প্রযোজক উইলিয়াম ওয়াইলার বলেন, 'আমি প্রতিভাধর এমন একজনের খোঁজে ছিলাম, যার মধ্যে সরলতা ও আকর্ষণের ক্ষমতা আছে, তাঁর মধ্যে সবই ছিল।'

'ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্যানিস' ও আইকনিক মর্যাদা

'ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্যানিস' সিনেমাটি অড্রেকে আইকনে পরিণত করে। এই সিনেমায় অভিনয় করে অস্কার না পেলেও, তার চরিত্রটির প্রভাব যুগের পর যুগ বিস্তার করেছে। তার বিশেষ চুলের স্টাইল ও সিগারেট হোল্ডার হলিউডের আইকনিক ছবি হয়ে ওঠে। সিনেমায় পরা কালো পোশাকটি ২০০৫ সালে নিলামে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবার ও আধা-অবসর

১৯৬৭ সালের পর অড্রে হেপবার্ন কাজ কমিয়ে দেন, মূলত পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য। ১৯৫৯ সালে 'দ্য আনফরগিভেন' সিনেমার শুটিংয়ে ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন, যা তার গর্ভপাত ঘটায়। এই ঘটনা তাকে কাজ কমাতে বাধ্য করে। বড় পর্দায় তার শেষ প্রধান চরিত্রের সিনেমা 'দে অল লাফড' ১৯৮১ সালে মুক্তি পায়।

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত ও বাংলাদেশ সফর

অভিনয় ছেড়ে অড্রে মন দেন জনকল্যাণমূলক কাজে। ১৯৮৯ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত নিযুক্ত হন। একই বছরের ১৮ অক্টোবর তিনি ঢাকায় আসেন এবং এক সপ্তাহ থেকে ২৪ অক্টোবর ফিরে যান। এ সময় তিনি বাংলাদেশে ইউনিসেফের বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন।

মৃত্যু ও শেষকৃত্য

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৩ সালের ২০ জানুয়ারি ৬৩ বছর বয়সে সুইজারল্যান্ডের নিজ বাড়িতে ঘুমের মধ্যে মারা যান অড্রে হেপবার্ন। তার শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন 'রোমান হলিডে'র জুটি গ্রেগরি পেক। তিনি অড্রের প্রিয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা 'আনএন্ডিং লাভ' আবৃত্তি করে শ্রদ্ধা জানান।