কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এনজিও ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার (১১ মে) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের ফলে মিয়ানমার থেকে আরও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে উৎসাহিত হতে পারে, যা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য
কক্সবাজারের অর্ধশতাধিক এনজিও সংস্থার জোট ‘সিএসও-এনজিও ফোরাম’ (সিসিএনএফ) আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৯ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, উল্টো গত দুই বছরে নতুন করে আরও দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সিসিএনএফের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পৃথিবীর কোথাও শরণার্থীদের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের নজির নেই। উখিয়ায় পাহাড় কেটে এ ধরনের নির্মাণকাজ চললে রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের বার্তা যাবে, যা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।
জাতীয় নিরাপত্তার দাবি
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সিসিএনএফের কো-চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপদ না হলে কক্সবাজারে স্থিতিশীলতা আসবে না। তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আসিয়ান ফোরামে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং প্রয়োজনে আরাকান আর্মির সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন।
পরিবেশ ও কৃষির ওপর প্রভাব
পরিবেশ আন্দোলনকর্মী মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে প্রায় আট হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে উখিয়া-টেকনাফে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে এবং নলকূপে লবণাক্ত পানি উঠছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৩০০ একর চাষযোগ্য জমি নষ্ট হয়ে গেছে, যা পুনরুদ্ধারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদী সংকট
কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই স্থায়ী শেল্টার নির্মাণের কাজ চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া ‘ভেন্ডরশিপ’ কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। বর্তমানে কক্সবাজারে ১৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না হলে এই সংকট সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।



