বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে মানববন্ধন ও সচেতনতা অনুষ্ঠান
বগুড়ায় মাদকবিরোধী দিবসে মানববন্ধন ও সচেতনতা

শহরের ব্যস্ততম মোড়, মানুষের অবিরাম পদচারণে আর যানবাহনের কোলাহলের মধ্যেও গত শুক্রবার বগুড়ার সাতমাথা যেন কিছু সময়ের জন্য ভিন্ন এক বার্তা বহন করেছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজন এবং বগুড়া ও পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভার সহযোগিতায় মানববন্ধন কর্মসূচি পরিণত হয় সচেতনতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধের এক অনন্য আয়োজনে।

সাতমাথা মোড়ে মানববন্ধন

সাতমাথা মোড়ে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা হাতে প্ল্যাকার্ড তুলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁদের কণ্ঠে ছিল একটাই প্রত্যয়—একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনায় মাদকের ভয়াবহতা ও প্রতিরোধ

আলোচনা পর্বে অতিথিরা মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতিচর্চা ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বক্তব্য দেন কমিউনিস্ট পার্টি বগুড়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফারহানা আক্তার শাপলা, বাংলাদেশ ক্ষেত মজুর কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য লিয়াকত আলী, বগুড়া থিয়েটারের দপ্তর সম্পাদক অলক পাল, দল অন্যরকমের সংগঠক সোবহানি বাপ্পি, আস্থা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের কাউন্সিলর নয়ন হোসেন এবং আমরা কজন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন সোহাগ। প্রত্যেকে নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে মাদক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বগুড়া বন্ধুসভার সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন। সমাপনী বক্তব্যে প্রথম আলো বগুড়ার নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এটি পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’ সঞ্চালনা করেন বগুড়া বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল গালিব খান।

স্লোগান ও সচেতনতামূলক প্রচারণা

শেষ পর্বে উপস্থিত সবাই মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান ও সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নেন। ব্যস্ত শহরের মানুষও কিছু সময়ের জন্য থেমে এই বার্তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।