কূটনৈতিক ও কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও দখলদার ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধাস্ত্র ও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও কাতার। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
কাতারের ইসরায়েলি সরঞ্জাম সংগ্রহ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই দেশ ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের জন্য কম্পিউটারাইজড হেলমেট সংগ্রহ করেছে। হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, কাতারের রাজ পরিবারের ব্যবহৃত ১১টি বিমানের মধ্যে তিনটিতে ইসরায়েলি কোম্পানি ‘এলবিটের’ তৈরি ‘সি-মিউজিক’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিমানগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদেশ সফরের সময় এই প্রযুক্তিগুলো স্থাপন করা হয়।
এফ-১৫ যুদ্ধবিমান চুক্তি
এছাড়া ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে এফ-১৫কিউএ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি হয়। সেই চুক্তির আওতায় অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য ইসরায়েলি কোম্পানি প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের সাব-কন্টাক্ট পায়। এর অংশ হিসেবে কাতার ১৬০টি জেএইচএমসিএস (JHMCS) হেলমেট সংগ্রহ করে, যার প্রতিটির মূল্য দুই লাখ ডলার। পাশাপাশি ইসরায়েল থেকে এএন/এভিএস-৯ নাইট ভিশন গ্লাসও সরবরাহ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের ইসরায়েলি অস্ত্র ক্রয়
অন্যদিকে, ২০১০ সালের মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে হারেৎজ জানায়, সৌদি আরব মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে এফ-১৫এসএ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ইসরায়েল থেকে ৪৫২টি অত্যাধুনিক হেলমেট এবং ৪৬২টি নাইট ভিশন গ্লাস কিনেছে। অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন ফুটেজে সৌদি বাহিনীর ব্যবহৃত এসব ইসরায়েলি সরঞ্জাম স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক সরঞ্জাম নিজেদের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



