ট্রাম্পের দাবি: ইরান পারমাণবিক শর্ত মেনেছে, পাকিস্তানে চুক্তি হলে যেতে পারেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের শর্তাবলি মেনে নিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসলামাবাদে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তিনি নিজেও সেখানে যেতে পারেন। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, 'ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব শর্ত মেনে নিয়েছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান অন্তত ২০ বছর পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফর
ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুদেশের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তানে যাবেন কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, 'সম্ভবত যাবো, হ্যাঁ। যদি ইসলামাবাদে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, আমি যেতে পারি। পাকিস্তানের নেতৃত্ব ভালো কাজ করছে।' তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই দ্বিতীয় দফা আলোচনার সময়সূচি ঘোষণা করেনি। ট্রাম্প অবশ্য মন্তব্য করেন যে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কাছাকাছি।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও পারমাণবিক ধূলিকণা হস্তান্তর
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান যে উপাদানকে তিনি 'পারমাণবিক ধূলিকণা' বলে উল্লেখ করেছেন—সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম—তা হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যা আলোচনাগুলোকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের নীরবতা হয়তো কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি ঘটনায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যা ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরাইলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু কর্মকর্তা ও নাগরিকের মতে, এটি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত, যা দেশের স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি মানতে রাজি হলেও লেবাননের ভূখণ্ডজুড়ে হামলা বন্ধ এবং ইসরাইলি সেনাদের চলাচল সীমিত করার শর্ত রয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দ্রুত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন, তবে সেখানে আনুষ্ঠানিক ভোট হয়নি। জেরুজালেম থেকে প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি লেবাননে স্বস্তি আনলেও ইসরাইলে অনেকেই হতাশ ও বিস্মিত। তারা প্রশ্ন তুলছেন, কেন সরকার এ সিদ্ধান্তে রাজি হলো।
বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এ যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত ভঙ্গুর। সামান্য উত্তেজনাও এটি ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও অনেক দূরের বিষয়, আর এই যুদ্ধবিরতি মূলত সাময়িক স্বস্তির সুযোগ মাত্র। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের দাবিগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতি এবং পাকিস্তানের ভূমিকা ভবিষ্যৎ সম্পর্কগুলোর গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।



