পাকিস্তানে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৮ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের আটজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাট্টার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল কয়েক ঘণ্টা ধরে অপারেশন চালিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সামা টিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারিপুরে সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেড পরিচালিত একটি পাইপলাইনে গ্যাস লিকেজের কারণে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দ্রুত পাশের একটি বস্তি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে ঘরবাড়ি পুড়ে যায় এবং বহু বাসিন্দা আটকা পড়েন। ডেপুটি কমিশনার ওয়াসিম আহমেদের তথ্যমতে, নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য—যাদের মধ্যে তিন শিশু, দুই কিশোরী, দুই বৃদ্ধা নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান ও কর্তৃপক্ষের তৎপরতা
ঘটনার পরপরই অ্যাবোটাবাদ, মানসেহরা, সোয়াবি, মারদান, চারসাড্ডা, ওয়াহ ক্যান্ট ও ট্যাক্সিলা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রেসকিউ ১১২২-এর নেতৃত্বে দমকলকর্মীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেখানে আর কেউ আটকা নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন এমএস ডা. মুনাওয়ার আফ্রিদি, ডিপিও শফিউল্লাহ গুন্ড এবং সহকারী কমিশনার ফাসিহ ইশাক আব্বাসি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মূল গ্যাস পাইপলাইনের ভালভ বন্ধ করা হয়, তবে লাইনে উচ্চচাপ থাকার কারণে আগুন কমতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে।
ক্ষয়ক্ষতি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিস্ফোরণ ও আগুনের কারণে বস্তি এলাকার বহু ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, যা স্থানীয়দের জন্য মারাত্মক আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনও ঘটনার সঠিক কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে তদন্ত চালাচ্ছে।
গ্যাস পাইপলাইন সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং শিল্প এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনার পর। স্থানীয়রা দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।



