জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতারা গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় যুদ্ধের অবসান চেয়ে জোরালো কণ্ঠস্বর শোনা গেছে বিশ্বনেতাদের মধ্যে।
যুদ্ধবিরতির আহ্বান
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দেন। তারা বলেন, নিরীহ মানুষের মৃত্যু বন্ধ করতে হবে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
মার্কিন অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর ভাষণে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সমর্থন করলেও নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় বেসামরিক লোকদের রক্ষা করতে হবে এবং মানবিক আইন মেনে চলতে হবে। বাইডেন যুদ্ধবিরতির পক্ষে স্পষ্ট কোনো অবস্থান না নিলেও মানবিক বিরতির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।
আরব দেশগুলোর কঠোর অবস্থান
আরব দেশগুলোর নেতারা গাজায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি দাবি করেন। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর যে অমানবিক আচরণ চলছে তা বন্ধ করতে হবে। কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়।
মানবিক সহায়তা প্রয়োজন
গাজায় খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, গাজায় মানবিক বিপর্যয় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা পৌঁছাতে হবে। তিনি যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির আহ্বান জানান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, গাজার হাসপাতালগুলো ধ্বংসের মুখে। সেখানে চিকিৎসা সামগ্রী ও জ্বালানির অভাবে রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি অবিলম্বে মানবিক করিডোর খোলার দাবি জানান।
ইউরোপীয় নেতাদের বক্তব্য
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে কথা বলেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্র�ী ঋষি সুনাক যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কথা বলেন।
গাজায় চলমান সংঘাত বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বনেতারা একমত যে, এই সংকটের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।



