সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. সোবহান প্রামাণিক (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত সোবহান স্থানীয় একটি দুগ্ধ সমবায় সমিতির সাবেক ম্যানেজার ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী শেফালী খাতুনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
রোববার (১০ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হায়দুল ইসলাম (৫০) নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। আটক হায়দুল একই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে।
পূর্ব শত্রুতার ইতিহাস
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামে খাস পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে মোল্লা ও প্রামাণিক বংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে গত দুই বছর আগেও সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহতের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পুরনো শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে সোবহান প্রামাণিককে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে স্বজনরা।
হামলার ঘটনা
রোববার রাতে সোবহান প্রামাণিক ও তার স্ত্রী ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই সোবহানের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী শেফালী খাতুন। চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত শেফালীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশের তৎপরতা
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত কিনা তা যাচাই-বাছাই চলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।



