ভারতে মুসলিমদের ওপর সহিংসতায় হেফাজতের উদ্বেগ ও নিন্দা
ভারতে মুসলিমদের ওপর সহিংসতায় হেফাজতের উদ্বেগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।

বিবৃতিতে উদ্বেগ ও নিন্দা

শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় সংগঠনটির অফিস সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানান তারা।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা বলেন, নির্বাচনি ফলাফলকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের লক্ষ্য করে যেভাবে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, তা মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট পরিপন্থি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজেপি নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে

বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি মুসলমানরা তাকে ভোট দেয়নি বলে উল্লেখ করেন—তা মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তারা।

নেতারা আরও বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব সহিংস কর্মকাণ্ডে উগ্রপন্থি বিজেপি সমর্থকদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ভারতের মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতনের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানানো এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভারত সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী দেশে মুসলমানদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিষয়ে নীরব থাকা উচিত নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।