নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঘরের মধ্যে আগুন লেগে দগ্ধ মীর কালাম মারা গেছেন। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্য। তাঁদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
মৃত্যুর বিবরণ
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কালামের মৃত্যু হয়। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কালামের শ্বাসনালিসহ শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে চিকিৎসক জানান।
ঘটনার বিবরণ
গতকাল রোববার সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের একটি বাড়িতে আগুনের এ ঘটনা ঘটে। এতে সবজি বিক্রেতা মীর কালাম (৩৫), তাঁর স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (১২) এবং দুই মেয়ে কথা (৪) ও মুন্নি (৭) দগ্ধ হয়।
দগ্ধদের অবস্থা
বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বলেন, কালামের স্ত্রী সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ, ছেলে মুন্নার ৩০ শতাংশ, মেয়ে কথার ৫২ শতাংশ ও মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।
উদ্ধার ও হাসপাতালে নেওয়া
দগ্ধ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. রাকিব বলেন, সকাল সাতটার দিকে বাসাটিতে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে। পরে ভেতর থেকে তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়।
নিহতের পরিচয়
নিহত কালামের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল থানার বালুকদিয়ে গ্রামে।
প্রাথমিক তদন্ত
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরিফিন গতকাল বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাটের পশ্চিম পাশের কক্ষের সঙ্গে থাকা রান্নাঘরের গ্যাসলাইনে লিকেজ ছিল। এতে বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে যায়। পরে লাইটার জ্বালানোর চেষ্টা করলে বিস্ফোরণ ঘটে।



