থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিনের মুক্তি

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রভাবশালী ধনকুবের থাকসিন সিনাওয়াত্রা দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও নাটকীয়তার পর অবশেষে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকালে ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় শত শত সমর্থক তাকে লাল পোশাক পরে 'আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি' স্লোগানে অভিবাদন জানান।

মুক্তির পটভূমি

৭৬ বছর বয়সী এই নেতা ১৫ বছরের নির্বাসন শেষে ২০২৩ সালে দেশে ফিরে আসার পর ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন হাসপাতালে কাটানোর পর আদালতের নির্দেশে গত আট মাস প্রকৃত কারাভোগ করেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় থাকসিনকে হাসিখুশি দেখা যায়। সাদা শার্ট পরিহিত অবস্থায় তাকে কারাফটকে স্বাগত জানান তার মেয়ে ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা।

রাজনৈতিক প্রভাব

গত আগস্টে পেতংতার্নকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঠিক ১০ দিন পর থাকসিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। মুক্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় থাকসিন বলেন, তিনি এখন অনেকটা স্বস্তি বোধ করছেন এবং দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার কারণে নিজেকে 'শীতনিদ্রায়' থাকার সঙ্গে তুলনা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে গত ২৫ বছর ধরে থাকসিনের প্রভাব একচ্ছত্র থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার দল 'ফেউ থাই' গত নির্বাচনে আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, থাকসিনের এই মুক্তি তার দলকে রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে উবন রাচাথানি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তিতিপোল ফাকদিওয়ানিচের মতে, থাকসিনকে এখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলতে হবে। নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখলে সেটি তার দলের জন্য ভালো হবে, কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী তিনি কতক্ষণ অন্তরালে থাকতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শর্ত ও ভবিষ্যৎ

উল্লেখ্য, থাকসিনকে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পায়ের গোড়ালিতে ইলেকট্রনিক মনিটর পরে থাকতে হবে। থাকসিনের অনুসারীদের মতে, তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের কথা ভেবেছেন এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছেন। আদালতের নির্দেশে এবং রাজার বিশেষ ক্ষমায় সাজার মেয়াদ কমানোর পর অবশেষে মুক্ত বাতাসে ফিরলেন থাইল্যান্ডের আধুনিক রাজনীতির এই অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিতর্কিত নায়ক।