জাপানের উত্তর উপকূলে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে
জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ইওয়াতে প্রিফেকচারের প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলসীমায় এই ভূমিকম্পটি ঘটে। ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকায় ৩ মিটার বা ১০ ফুট উচ্চতার সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবরটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে।
ভূমিকম্পের বিস্তার ও প্রভাব
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কম্পন কয়েকশ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সুনামির প্রথম ঢেউগুলো উত্তর উপকূলের কিছু অংশে তাৎক্ষণিকভাবে আঘাত হানতে পারে। এ কারণে উপকূল ও নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে, বিশেষ করে উঁচু এলাকা বা নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও সরকারি পদক্ষেপ
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-এর সরাসরি সম্প্রচারে ইওয়াতের কয়েকটি বন্দরে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়নি। তবে হতাহতের ঘটনা বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, সরকার একটি সংকট ব্যবস্থাপনা দল গঠন করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে। তিনি বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জাপানের ভূমিকম্পপ্রবণ ইতিহাস
জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশই এই দেশটিতে ঘটে। ২০১১ সালের ৯ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়, যা দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হিসেবে কাজ করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের দ্রুত সতর্কতা জারি ও পদক্ষেপ গ্রহণ এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।



