সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে তোলা জরুরি বিষয়
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) হাতিয়া থেকে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়তে যাওয়ার ঘটনা সংসদকে জানান তিনি, যা সংসদীয় আলোচনায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
হামলা ও হুমকির বিস্তারিত বর্ণনা
হান্নান মাসউদ সংসদে উত্থাপিত জরুরি নোটিশে বলেন, তিনি একটি দুর্গম দ্বীপাঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের রাজত্ব চলছে। নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে তিনি অন্তত পাঁচবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি তার জন্য মসজিদে দোয়া করায় ইমামের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, যিনি গত দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি যোগ করেন, "আমাকে সরাসরি অস্ত্র হাতে কোপাতে আসার ভিডিও এবং প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক শেল্টারে রাখা হচ্ছে। ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।"
ডেপুটি স্পিকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হান্নান মাসউদের নোটিশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "একজন সংসদ সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা ও হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়।" যদিও কার্যপ্রণালী বিধির কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে নোটিশটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি, তবুও তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, "সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের উত্থাপিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদি হামলার ঘটনাগুলো সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার অপরাধীদের ছাড় দেবে না।" তিনি হান্নান মাসউদকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দেন, যাতে পুলিশ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
হান্নান মাসউদ সংসদে প্রশ্ন তোলেন, "একজন সংসদ সদস্য হয়েও যদি আমি এবং আমার নেতাকর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী?" তিনি উল্লেখ করেন যে, তার গাড়িতে এখনও সন্ত্রাসীদের দেওয়া কোপের দাগ রয়েছে এবং বিটিভির সাংবাদিককে কুপিয়েছে এমন চিহ্নিত আসামিরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এই ঘটনার সংসদীয় তদন্তের পাশাপাশি নিজের ও তার কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



