বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন ‘মায়ের ডাক’ সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন ‘মায়ের ডাক’ সমন্বয়ক তুলি

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন ‘মায়ের ডাক’ সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে ৩৬ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নতুনদের প্রাধান্য ও তুলির মনোনয়ন

ঘোষিত তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবার নতুনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বেশি। মোট ২৮ জন নারী প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন। যার মধ্যে আছেন বাংলাদেশের গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি নিজে গুমের শিকার ব্যক্তির স্বজন।

গুমের মতো অবিচারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে উচ্চকিত কণ্ঠ ছিলেন তুলি। রাজপথে লড়াই করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালেও। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের নিয়ে গড়ে ওঠে এ সংগঠন। তুলির ভাই বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমন প্রায় এক যুগ আগে গুম হয়েছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দীর্ঘ আন্দোলনের স্বীকৃতি

দীর্ঘ সেই আন্দোলন-সংগ্রামের যেন স্বীকৃতি পেলেন সানজিদা ইসলাম তুলি। এই মনোনয়নকে শুধু নিজের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, রাজপথে সংগ্রামরত সব মানুষের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন তুলি। এই তালিকা প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, “এই মনোনয়ন শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি রাজপথে সংগ্রামরত সব মানুষের স্বীকৃতি। আমি সবসময় নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি, আগামীতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘মায়ের ডাক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছেন তুলি। সংগঠনটির ব্যানারে বিভিন্ন মানববন্ধন, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও দলীয় প্রতিক্রিয়া

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী করা দলটির কৌশলগত একটি পদক্ষেপ। এতে একদিকে যেমন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে, অন্যদিকে মানবাধিকার ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে আরও জোরালোভাবে সামনে আনার ইঙ্গিতও রয়েছে।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং আন্দোলনে দৃঢ় অবস্থানের কারণেই সানজিদা ইসলাম তুলির প্রতি আস্থা রেখেছে বিএনপি। তার মনোনয়নকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

পূর্বের নির্বাচনী ইতিহাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জামায়াতের ব্যারিস্টার আরমানের কাছে ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন সানজিদা ইসলাম তুলি। এবারের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন তার রাজনৈতিক পথচলায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিএনপির এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন মুখদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা দলের ভবিষ্যৎ কৌশল ও জনসমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সানজিদা ইসলাম তুলির মতো মানবাধিকার কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি দলের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।